বরাক তরঙ্গ, ৭ অক্টোবর : গুয়াহাটির পল্টনবাজার রেলস্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মহানগর পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্তে পল্টনবাজারের কয়েকটি হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক অভিযান চালিয়ে মহিলা ও শিশুসহ মোট ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। ডিসিপি (সীমান্ত) কুলেন্দ্র এন ডেকা সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত দুদিনে দুটি পৃথক অভিযানে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল প্রায় ৩টা নাগাদ গুয়াহাটি রেলস্টেশনে লোকমান্য তিলক টার্মিনাল এক্সপ্রেসের একটি কামরা থেকে পাঁচজনের একটি বাংলাদেশি দলকে আটক করে গুয়াহাটি পুলিশের সীমান্ত শাখার বিশেষ দল।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ঢাকা, বগুড়া, রাজবাড়ি, নড়াইল ও জামালপুর জেলার বাসিন্দা। গত ৫ অক্টোবর অসমে প্রবেশের পর তাঁরা টকৌবাড়ির ‘হোটেল ভিন্টেজ’ ও ‘হোটেল ভিন্টেজ হোম’-এ আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেখান থেকে ট্রেনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এই ঘটনায় হোটেলের মালিক অমিত রায় দৈমারি, দুই ম্যানেজার বিশাল পাল ও রঞ্জন ধর এবং ধুবড়ির এক রিকশাচালক হজরত আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, হজরত আলী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে নিয়ে আসা এবং তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও তিনি সমন্বয় করতেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক পাঁচজনের মধ্যে চারজন মহিলা ও একজন পুরুষ। তাঁরা মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে অসমে এসেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। হজরত আলীর মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ পরীক্ষা করে বাংলাদেশের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
এদিকে, আটক এক বাংলাদেশি মহিলার কাছ থেকে গুজরাটের ঠিকানা-সহ একটি বৈধ আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ওই মহিলা আগে ভারতে প্রবেশ করে গুজরাটে বসবাস করতেন এবং সেখানে বিয়েও করেছিলেন। ঘটনায় পানবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার পল্টনবাজার এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে মহিলা ও শিশুসহ আরও ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, এই দলটি গত ১৪-১৫ বছর ধরে শ্রীনগরে বসবাস করছিল। শ্রীনগর পুলিশ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর তাঁরা অসমে চলে আসেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। অসম হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁরা গুয়াহাটিতে এসেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।



