২১ অক্টোবর : যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আদেশ অমান্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দুই শীর্ষ নেতার জামিন ও বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির মামলার শুনানিতে বড় ধাক্কা খেলেন আবেদনকারীরা। দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই দলের দুই শীর্ষ নেতা জেন-জি (Gen Z)-র অন্তর্ভুক্ত নন।
শুনানিকালে আবেদনকারীদের আইনজীবী অভীক চিমনি জানান যে, ধৃত দুই নেতা সৌরভ দাসের বয়স ২৭ এবং আশুতোষ রঙ্কার বয়স ৩২ বছর। এই তথ্য শোনার পরেই বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ প্রশ্ন তোলেন, তা হলে আপনারা জেন-জি কেন ? আদালত মনে করিয়ে দেয়, সাধারণত নির্দিষ্ট সময়সীমার পরের প্রজন্মকে জেন-জি বলা হয়, সেই অনুযায়ী এই দুই নেতা সেই প্রজন্মের মধ্যে পড়েন না।
তবে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সংশোধনী বা রিভিশনের বিকল্প আইনি পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও কেন সরাসরি সংবিধানের ২২৬ ধারায় হাইকোর্টের শরণাপন্ন হতে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ। দিল্লি পুলিশের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং আইনজীবী আশিস দীক্ষিত।
আদালত জানায়, যন্তর মন্তরের নির্দিষ্ট সাইটটি প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাতিল হওয়ার পরেও প্রতিবাদকারীরা সেখানে ফিরে গিয়েছিলেন। যদিও সুপ্রিম কোর্টে এই বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন, তবুও সেখানে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। এছাড়া অন্যান্য বিক্ষোভের উদাহরণ টেনে আদালত সতর্ক করে জানায়, শান্তিপূর্ণ জমায়েতও অনেক সময় হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে এবং এর ফলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের সাইটটি বাতিল হওয়ার পরেও সেখানে প্রতিবাদের জেরে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। জামিনের জন্য বন্ড ও ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছিলেন আবেদনকারীরা। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার ত্রুটি এবং উপযুক্ত বিকল্প ফোরামের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন আবেদনকারীরা।



