কাছাড় কলেজে দু’দিনব্যাপী পটচিত্র কর্মশালা শুরু, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ জানুয়ারি : কাছাড় কলেজ শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পটচিত্র কর্মশালা। কলেজের আইকেএস সেল এবং শিল্পাঙ্গনের উদ্যোগে, অসম বিশ্ববিদ্যালয় শিলচরের সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম (আইকেএস)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা ভালো সংখ্যায় অংশ নিচ্ছেন। দু’দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলমান এই কর্মশালা পটচিত্রের মতো ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সংরক্ষণ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত পটচিত্র শিল্পী সেরামুদ্দিন চিত্রকর কর্মশালার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই কর্মশালার অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ভারতীয় লোকসংস্কৃতিতে পটচিত্রের গভীর শিকড় এবং বর্তমান যুগে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।”

বক্তারা পটচিত্রের উৎপত্তি, বিষয়বস্তু, গল্প বলার শৈলী এবং চিত্রাঙ্কন, সঙ্গীত ও বর্ণনার মাধ্যমে এর অনন্য রূপ তুলে ধরেন।কাছাড় কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামস উদ্দিন বলেন, “এমন একটি অর্থবহ কর্মশালার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমাদের প্রতিষ্ঠান গর্বিত। এ ধরনের কর্মসূচি ছাত্র-ছাত্রীদের ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থা এবং জীবন্ত শিল্পরূপের সঙ্গে যুক্ত করে।” প্রধান অতিথি কাছাড় কলেজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য অধ্যাপক অনুপ কুমার দে লোকশিল্প সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “এই শিল্পরূপগুলির মধ্যেই মানুষের গল্প, মূল্যবোধ এবং ইতিহাস লুকিয়ে আছে।”কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আনন্দ চন্দ্র ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন, “এই কর্মশালা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

কলেজের আইকেএস সেলের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও ছাত্রছাত্রী ও সমাজের কল্যাণে এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।” শিল্পাঙ্গনের প্রধান সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ বলেন, “ঐতিহ্যবাহী শিল্পী ও নতুন প্রজন্মকে একত্রিত করতে আমরা আগামীতেও কাজ করে যাব।”কর্মশালার লক্ষ্য পটচিত্রের ইতিহাস, তাৎপর্য নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান। অংশগ্রহণকারীরা ব্যবহারিক দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবেন। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রসারে শিল্পাঙ্গনের ভূমিকার জন্য সকলে প্রশংসা জানান। এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী বিমলেন্দু সিনহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *