আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ মার্চ : দু’দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সমাজকর্ম বিভাগ ও স্টুডেন্টস ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে ৮ ও ৯ মার্চ নেতাজি মুক্ত মঞ্চে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সোমবার দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলচর পুরনিগমের কমিশনার সৃষ্টি সিং ও বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘ভারতের ব্যাম্বু লেডি’ হিসেবে পরিচিত নীরামণি শর্মা। এছাড়াও ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল রাজাক টি, ছাত্রকল্যাণের ডিন অধ্যাপক অনুপকুমার দে প্রমুখ।

স্বাগত ভাষণ দেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপিকা ড. রত্না হুইরেম। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অধ্যাপক শুভব্রত দত্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিঙ্গ-সংবেদনশীল সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ডিন ছাত্রকল্যাণ অধ্যাপক অনুপ কুমার দে ভারতের ইতিহাসে নারীর অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবিধানে সমান অধিকার থাকা সত্ত্বেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এখনও ন্যায় ও সমতার জন্য সংগ্রাম করছেন।

বিশেষ অতিথি নীরামণি শর্মা গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভর করতে বাঁশজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরজ মাধ্যমে বহু নারী জীবিকা অর্জন ও আর্থিক স্বনির্ভরতার সুযোগ পাচ্ছেন বলে তিনি জানান। প্রধান অতিথি সৃষ্টি সিং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সামনে থাকা ‘গ্লাস সিলিং’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই বাধা অতিক্রম করার আহ্বান জানান। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল রাজাক টি নারী অধিকার, লিঙ্গ ন্যায়বিচার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তব্য রাখেন সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তরুণ বিকাশ সুকাইও। 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ড. দর্শনা পাটোয়া সহ দু’জন মহিলা সহায়ক কর্মীকে তাঁদের নিষ্ঠা ও অবদানের জন্য সংবর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি সমাজকর্ম বিভাগের সকল মহিলা শিক্ষিকাকেও স্মারক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদিকা মীমাংসা কৈরি। উল্লেখ্য, রবিবার বিভিন্ন ছাত্রছাত্রী-কেন্দ্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ছিল ক্রীড়া, বিতর্ক, গান ও নৃত্য প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *