বরাক তরঙ্গ, ১১ এপ্রিল : ভারতের নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলের দ্বিশত জন্মবর্ষের সূচনায় তাঁর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র কাছাড় জেলা কমিটির পক্ষ থেকে। শনিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আহ্বানে এই মহান ব্যক্তির জন্মের দ্বিশতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ- বিজ্ঞানভিত্তিক – গণতান্ত্রিক ও সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সংকল্প গ্রহণ করা হয়। আজ এআইডিএসও-র কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এই দিনটিকে দেশব্যাপী সরকারি শিক্ষা বাঁচাও দিবস হিসেবেও পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে শিলচরের এআইডিএসও-র উকিলপট্টিস্থিত জেলা কার্যালয়ে জ্যোতিবা ফুলে এর প্রতিকৃতি বসিয়ে মাল্যদান করেন এআইডিএসও-র কাছাড় জেলা কমিটির সহ সভাপতি পল্লব ভট্টাচার্য, জেলা সম্পাদক স্বপ্নন চৌধুরী, জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য শেফালী দাস প্রমুখ। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় বলা হয় যে পরাধীন ভারতে মহারাষ্ট্রে আজ থেকে প্রায় দু’শত বছর আগে প্রচলিত মধ্যযুগীয় কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে নবজাগরণের ভাবধারায় সমাজে বিজ্ঞান ভিত্তিক, যুক্তিবাদী চিন্তার উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন জ্যোবিবা ফুলে। বিশেষ করে জাতিভেদ প্রথা ও স্ত্রী শিক্ষার প্রচলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সংগঠনের পক্ষ থেকে এও বলা হয় যে যদিও জাতিভেদ প্রথা নির্মুল করার আইন রয়েছে কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। বরং এই জঘন্য কু-প্রথাকে বাঁচিয়ে রেখে পুঁজিবাদী শোষণমূলক ব্যাবস্থাকে পাকাপোক্ত রাখতে শোষিত জনগণের ঐক্যকে ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। দেশের খ্যাতনামা যুক্তিবাদী লেখক, সমাজকর্মী, ইতিহাসবিদ সহ সাধারণ সচেতন নাগরিকদের উপর নামিয়ে আনা হচ্ছে তীব্র আক্রমণ। তাই নবজাগরণ আন্দোলনের চিন্তাকে সমাজ জীবনে ছড়িয়ে দিতে মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের জন্মের দ্বিশতবর্ষ গোটা দেশের সাথে কাছাড় জেলাতেও বর্ষব্যাপী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।



