বরাক তরঙ্গ, ২৯ অক্টোবর : বদরপুরের বরাক সেতুর উপর বৃহস্পতিবার সকালে একটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের ট্রলি লাইনচ্যুত হওয়ায় লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এর জেরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও বাতিল করতে হয়। তবে দ্রুত উদ্ধার ও মেরামতির কাজ চালিয়ে দুপুর ৩টা নাগাদ রেলপথ সচল করে তোলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। সকাল ৯টায় দুর্ঘটনাস্থলে চিকিৎসা-সহায়ক সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ডাকা হয় দুর্ঘটনা মোকাবিলার বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রেন। সেটি সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে বদরপুর থেকে রওনা হয়ে ৯টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

বরাক সেতুর উপর ইঞ্জিনের সামনের ট্রলি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ালেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেললাইনে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার জেরে রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। রেলওয়ের বুলেটিন অনুযায়ী, ১৫৬১৬ নম্বরের শিলচর-গুয়াহাটি যাত্রীবাহী ট্রেনটির যাত্রা বদরপুরেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বদরপুর থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত ট্রেনটির নির্ধারিত যাত্রা আংশিক বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, রেকের অভাবে ১৫৬১৫ নম্বরের গুয়াহাটি-শিলচর ট্রেনটির ২৯ অক্টোবরের যাত্রা বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া ১৩১৭৫ নম্বরের শিয়ালদহ-শিলচর ট্রেনটিকে নিউ হাফলঙে, ১৩১২৬ নম্বরের শিয়ালদহ-আগরতলা ট্রেনটিকে বদরপুরে এবং ১৫৬৬০ নম্বরের আগরতলা-লোকমান্য তিলক টার্মিনাস ট্রেনটিকে নিউ করিমগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একইভাবে ১৩১৭৪ নম্বরের আগরতলা-শিয়ালদহ ট্রেনটিকে ধর্মনগরে এবং ১৩১২৫ নম্বরের শিয়ালদহ-আগরতলা ট্রেনটিকে লামডিংয়ে নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ৩টা নাগাদ মেরামতির কাজ শেষ হলে লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ সাইরাং–কলকাতা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলাকা নির্বিঘ্নে অতিক্রম করে। সাময়িকভাবে ব্যাহত রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।



