বরাক তরঙ্গ, ৩০ নভেম্বর : অসম রাজনীতির গত কয়েক দশকের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি—ছয় জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণ। প্রায় তিন দশক ধরে এই দাবি-প্রতিশ্রুতির বিষয়টি রাজ্যে ঝুলে রয়েছে। সম্প্রতি জনজাতিকরণের দাবিতে ছয় জনগোষ্ঠীর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠলে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে অসম সরকার।
ছয় জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য রণোজ পেগুর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছিল। নানা মতবিরোধের মধ্যেই শনিবার অসম বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে এই মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি সদনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে জনজাতিকরণের দাবিদার ছয় জনগোষ্ঠীকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে—ST (Plain), ST (Hills) ও ST (Valley), অর্থাৎ জনজাতি (সমতল), জনজাতি (পার্বত্য) ও জনজাতি (উপত্যকা)।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী তাই আহোম, চুতিয়া, চা জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীদের জনজাতি (উপত্যকা) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অবিভক্ত গোয়ালপাড়ার বাইরে অবস্থিত কোচ রাজবংশীদেরও একই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে মরান, মটক এবং অবিভক্ত গোয়ালপাড়ার কোচ রাজবংশীদের জনজাতি (সমতল) শ্রেণির স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বর্তমান জনজাতি সম্প্রদায়ের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে এই ছয় জনগোষ্ঠীকে জনজাতির অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় সংরক্ষিত আসনে নব-স্বীকৃত জনজাতিরা জায়গা পাবে না, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সংরক্ষিত আসন সুবিধাতেও তারা অন্তর্ভুক্ত হবে না—এ কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিধানসভায় প্রতিবেদন দাখিলের পর এটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট পাঠানো হবে। অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ছয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন ও মানুষের মধ্যে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বহু সংগঠন জানিয়েছে—এই প্রতিবেদন তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তবে বিরোধী পক্ষ প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও তা গৃহীত হয়নি।
রাইজর দল সভাপতি ও শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ এই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে একে “সম্পূর্ণ ভুয়া ও নির্বাচনী ললিপপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিধানসভার বিরোধী নেতা দেবব্রত শইকিয়াও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতিবেদন দাখিলের সময়েই কোকরাঝাড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছয় জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণের বিরোধিতা করে বড়োল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। কিছু অংশ আন্দোলনকারীরা বিটিসি সচিবালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। পরে গুয়াহাটিতেও আন্দোলনের ডাক দেন প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা।



