বরাক তরঙ্গ, ৩০ মার্চ : সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্ব ঠিক কেমন ছিল? সেই আদিম রহস্যের জট খুলতে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি ‘মিনি ব্যাং’ বা ক্ষুদ্র বিস্ফোরণ কীভাবে পথ দেখাচ্ছে? সোমবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই কৌতূহলের ওপর আলোকপাত করলেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী তথা গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এদিন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আমন্ত্রণে মেঘনাদ সাহা কনফারেন্স হলে এক বিশেষ স্মারক বক্তৃতায় অংশ নেন তিনি। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল “মিনি ব্যাং: মিমিকস অব দ্য বিগ ব্যাং”।
শুরুতেই উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে বিশিষ্ট অতিথিকে বরণ করেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক হিমাদ্ৰি শেখর দাস। মূল বক্তৃতায় অধ্যাপক ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করেন, অতি-উচ্চ শক্তিসম্পন্ন নিউক্লিয়ার সংঘর্ষের মাধ্যমে কীভাবে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পদার্থের ধর্মগুলো পরীক্ষা করা সম্ভব। সার্ন-এর ‘এলএইচসি-অ্যালিস’ এবং জার্মানির জিএসআই-এর ‘ফেয়ার-সিবিএম’ প্রকল্পের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই ‘মিনি ব্যাং’ আসলে গবেষণাগারে আদি মহাবিশ্বেরই এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। বর্তমানে তাঁর অধীনে ডিএসটি-র অর্থানুকূল্যে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্প চলছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে অধ্যাপক অশোক কুমার সেন, অত্রি দেশমুখ্য, বি ইন্দ্রজিৎ শর্মা, উৎপল সরকার, বিধান মোহান্ত, স্বর্ণদীপ বিশ্বাস সহ প্রায় ৮০ জন গবেষক ও ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার শেষে পড়ুয়াদের সঙ্গে এক দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্বেও মেতে ওঠেন বুদ্ধদেববাবু। আলাপচারিতার ফাঁকেই তিনি জানান, আগামী দিনে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা চালিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী। বিজ্ঞানের এই ঘরোয়া আসর শেষ পর্যন্ত এক উজ্জ্বল অ্যাকাডেমিক আদানপ্রদানের সাক্ষী হয়ে রইল। প্রসঙ্গত, এদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগীয় অতিথি অধ্যাপক সঞ্চালী নাথ মজুমদার।



