বরাক তরঙ্গ, ৩ এপ্রিল : শিক্ষাক্ষেত্রে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে হাফসা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সম্প্রতি এক গৌরবময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গুয়াহাটি সরুমোটোরিয়ায় অবস্থিত ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে “মতিউর রহমান চৌধুরী মেমোরিয়াল স্কলারশিপ” প্রদান করা হয়। এবার এই বৃত্তি লাভ করেন নলবাড়ির মেধাবী ছাত্রী মিনু বেগম, যিনি বিআরএম গভর্নমেন্ট ল’ কলেজে বিএ এলএলবি কোর্সে অধ্যয়নরত। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁর শিক্ষাগত সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে এই সম্মান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃত্তির প্রবর্তক ইঞ্জিনিয়ার মইনুদ্দিন চৌধুরী, হাফসা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা জিয়া উদ্দিন চৌধুরী, অসম সরকারের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব তাহির উদ্দিন লস্কর (এসিএস), গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা ড. রায়না মজুমদার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাইক্রোসফটের প্রাক্তন পরিচালক প্রিন্সি চৌধুরী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মইনুদ্দিন চৌধুরী তাঁর পিতা কাছাড়ের বাগপুরের বাসিন্দা মতিউর রহমান চৌধুরীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই বৃত্তি প্রবর্তন করেছেন। এর আগে ৭ মার্চ হাইলাকান্দির মেধাবী ছাত্র হাফিজ মমতাজুল হোসেন চৌধুরীকে “হাফসা হাতিম আলি চৌধুরী মেমোরিয়াল স্কলারশিপ” প্রদান করা হয়। তিনি বর্তমানে সিলচর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র।
এছাড়াও, তাঁর মা হাওয়ারুন নেসা চৌধুরীর স্মৃতিতে আরও একটি বৃত্তি চালু করা হয়েছে, যা দেশের স্বনামধন্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, এই তিনটি বৃত্তিই হাফসা ফাউন্ডেশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে এক বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা জিয়া উদ্দিন চৌধুরী এই উদ্যোগের জন্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুদ্দিন চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কেবল পূর্বপুরুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
একই অনুষ্ঠানে প্রগ্রেসিভ পিপলস ফাউন্ডেশন (পিপিএফ)-এর পক্ষ থেকেও “খায়রুন নেসা চৌধুরী মেমোরিয়াল স্কলারশিপ” প্রদান করা হয়। ১৫ হাজার টাকার এই বৃত্তি লাভ করেন শ্রীভূমির সুহানা বেগম, যিনি কাজিরাঙা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। এই বৃত্তি প্রবর্তন করেছেন ড. সাহনাওয়াজ মজুমদার ও মিস নিলুফার



