১৮ অক্টোবর : জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং সরকারি পরিষেবার মানের অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের চার দেশ—ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগাল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েকটিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ফ্রান্সের একাধিক শহরে দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লিমোজ শহরের ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হলে। আগুনে ভবনটির ছাদ ধসে পড়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ। স্কুলের পরিবেশ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে তা সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গ-সহ ফ্রান্সের একাধিক শহরে দোকানপাটে লুটপাট চালানো হয়। প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলেই সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ-পরবর্তী হিংসার মধ্যে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুনের তীব্রতায় ছাদ ধসে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, ভবনটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনাকে শহরের ঐতিহ্যের জন্য বড় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১,২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশকর্মী।



