বরাকে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি — ভিশন ডকুমেন্ট, তথ্যচিত্র ও থিম সঙ উন্মোচন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ জুলাই : বরাক উপত্যকায় গুয়াহাটি হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবিতে চালানো আন্দোলনে শনিবার নতুন মাত্রা যোগ হয়। শিলচরের এলোরা হেরিটেজে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনকে শক্তিশালী করতেই ভিশন ডকুমেন্ট, একটি তথ্যচিত্র এবং সরকারি থিম সং আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির কাছাড় জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত হয়। কমিটির আয়োজনে মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দাবির পক্ষে জনসমর্থন আরও সুসংহত করা এবং আন্দোলনের কৌশ্যগত রূপরেখা ছাপিয়ে দেওয়া।

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন এনআইটি শিলচরের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপকুমার বৈদ্য, ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক কুমার দেব, কমিটির সভাপতি ধ্রুব কুমার সাহা এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক বিদ্যুত কুমার পাল। অনুষ্ঠানে কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল পালও উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিপ্লব বিশ্বাস।
অধ্যাপক দিলীপ কুমার বৈদ্য বলেন, বরাক উপত্যকায় গৌহাটি হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হলে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপকার হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে হাইকোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার জন্য মানুষকে গুয়াহাটি যেতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা সামাজিক ও আর্থিকভাবে ভোগান্তিকর। স্থানীয় বেঞ্চ গড়ে উঠলে বিচার ব্যবস্থায় মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ হবে এবং ব্যয় অনেকটাই কমবে। এনআইটি শিলচরের পক্ষ থেকে তিনি আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক বিদ্যুত কুমার পাল বলেন, এই দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য এবং বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ বড় সুবিধা পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও এই আন্দোলনের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক কুমার দেব বলেন, হাইকোর্ট বেঞ্চের দাবি বহু দশক ধরে আইনজীবীরা জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি আন্দোলনকে নতুন দিশা দিয়েছে। তিনি বলেন, এখন এটি শুধু আইনজীবীদের দাবি নয়—বরং সমগ্র জনমানুষের দাবি হিসেবে গড়ে উঠছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হবেন।

কমিটির সভাপতি ধ্রুব কুমার সাহা বক্তৃতায় জানান, ১৯৭০-এর দশকে আইনজীবীদের উদ্যোগে এই দাবি শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ১৫০টি সংগঠন ইতিমধ্যেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আন্দোলনের ইতিবাচক ফল শীঘ্রই দেখা দেবে।

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীণ আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং শিল্প-সাংস্কৃতিক ও জনসেবায় সংযুক্ত ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সাংস্কৃতিক পর্ব চালু হয় ডিস্ট্রিক্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের যৌথ উদ্বোধনী সংগীত দিয়ে; এরপর নীলাঞ্জন পাল রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। রূপম কালচারাল অর্গানাইজেশনের দলের দলীয় পরিবেশনা ও নিক্কনের শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক মোড়ন ঘটায়। শেষে উপস্থিত সবাই একভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে। শিলচর ও সমগ্র বরাক উপত্যকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে একক গলায় গুয়াহাটির হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় ভিশন ডকুমেন্ট ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে দাবি এবং তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্তরে সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসূচি চিন্তিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আন্দোলন সূত্রে ছিল শক্তি বাড়ানো ও নিবিড় জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে বৃহৎ স্তরে দাবি উপস্থাপন করার লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *