তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন, পুরস্কার বিতরণ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ জুলাই : ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি ও বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এআইডিএসও, এআইডিওয়াইও এবং এআইএমএসএস-এর করিমগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় নজরুল জয়ন্তী উদযাপন করা হয়।
কর্মসূচির সূচনা হয় গত ২৬ মে শম্ভু সাগর পার্কে বিদ্রোহী কবির ব্রোঞ্জ মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ৪ ও ৫ জুলাই বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে বসে আঁকো, আবৃত্তি, নজরুলগীতি ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

৪ জুলাই সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। দুপুরে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং বিকেলে নজরুলগীতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ৫ জুলাই সকালে নজরুলগীতির সঙ্গে নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় সংগঠনের শিল্পীরা সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন। অংশগ্রহণ করেন লক্ষ্মী চন্দ, বাবলী দাস, রাধা কোঁহার, শিবা দাস ও জয়দীপ দাস। এআইডিএসও-এর শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি নাটকও মঞ্চস্থ হয়। এতে অভিনয় করেন শিবা দাস, রাধা কোঁহার, সুরজ নমসূদ্র, দীপক রায়, মোখতার আহমেদ, শেখর খোসার, তনুশ্রী বণিক, মাসুমা বেগম, স্বস্তিকা দত্ত, অনামিকা নাথ ও জয়দীপ দাস। এছাড়াও সংগঠনের কর্মীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। এআইএমএসএস-এর শিল্পীরা সমবেতভাবে নজরুলের “আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে” কবিতা আবৃত্তি করেন। অংশগ্রহণ করেন সুদীপ্তা দে চৌধুরী, পিকলু দে ও নীতিমালা ভট্টাচার্য। আমন্ত্রিত শিল্পী দেবশ্রী চক্রবর্তীর সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদীপ্তা দে চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন।

এআইডিএসও-এর করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্ল। তিনি বলেন, নজরুলের দেশপ্রেম, মানবতাবাদ ও সংগ্রামী চেতনা আজও সমাজকে পথ দেখায়। অপসংস্কৃতি, নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় নজরুলসহ নবজাগরণের মনীষীদের জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচক, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও এআইডিএসও-এর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি প্রজ্জ্বল দেব বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক অসাধারণ সাহিত্যিক, সংগীতস্রষ্টা, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সাম্যের কবি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী যেমন সংগ্রামের প্রেরণা যুগিয়েছে, তেমনি সাম্প্রদায়িকতা, শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। বর্তমান সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সংকট, সাম্প্রদায়িকতার প্রসার, অপসংস্কৃতি ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে নজরুলের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সুদীপ্তা দে চৌধুরী বলেন, নজরুল জয়ন্তী শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের বিষয় নয়; তাঁর জীবনসংগ্রাম, সাহিত্য ও আদর্শকে ধারণ করে বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে।
আলোচনা সভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এআইডিওয়াইও-এর জেলা সম্পাদক মন্টু কোঁহার এবং এআইএমএসএস-এর জেলা সম্পাদক পিকলু দাস। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের ফলাফল ঘোষণা
করিমগঞ্জে আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
বসে আঁকো প্রতিযোগিতা:
বিভাগ ‘ক’ – প্রথম: মেঘা রায়, দ্বিতীয়: প্রীতি বিশ্বাস, তৃতীয়: সূর্য বিশ্বাস।
বিভাগ ‘খ’ – প্রথম: সৃজা দাস, দ্বিতীয়: সম্বৃদ্ধা দাস, তৃতীয়: সমাদৃতা নাগ।
বিভাগ ‘গ’ – প্রথম: দীপায়ন দে, দ্বিতীয়: নবনীতা পাল, তৃতীয়: বিপ্রজিৎ দেব।
বিভাগ ‘ঘ’ – প্রথম: প্রদীপন দাস, দ্বিতীয়: শ্রেয়া দাস, তৃতীয়: তনুশ্রী সূত্রধর।
বিভাগ ‘ঙ’ – প্রথম: স্নেহা নাথ, দ্বিতীয়: শ্রেয়া দে, তৃতীয়: দিয়া দেব।
আবৃত্তি প্রতিযোগিতা:
বিভাগ ‘ক’ – প্রথম: অলঙ্কৃতা দে, দ্বিতীয়: স্নেহাক্ষিতা দাশ মজুমদার, তৃতীয়: নিলোৎপল নাথ।
বিভাগ ‘খ’ – প্রথম: সমৃদ্ধা দাস, দ্বিতীয়: সৌরজয় কর, তৃতীয়: সৃজা দাস।
বিভাগ ‘গ’ – প্রথম: দেবপ্রিয়া চক্রবর্তী, দ্বিতীয়: ঈশানি ধর।
সংগীত প্রতিযোগিতা:
বিভাগ ‘ক’ – প্রথম: সপ্তদীপ নাথ।
বিভাগ ‘খ’ – প্রথম: সৌরজয় কর, দ্বিতীয়: পলাক্ষী নাথ, তৃতীয়: সৃজা দেব।
বিভাগ ‘গ’ – প্রথম: স্বরূপ চন্দ, যুগ্ম প্রথম: রেশমী সেন, দ্বিতীয়: দীপশিখা চন্দ, তৃতীয়: প্রিয়াংশু রায়।
বিভাগ ‘ঘ’ – প্রথম: সুস্মিতা নাথ, দ্বিতীয়: মাহি ধর, তৃতীয়: বর্ণালী শুক্ল বৈদ্য।
বিভাগ ‘ঙ’ – প্রথম: দেবাংশী পাল, যুগ্ম প্রথম: রোশনী নাথ, দ্বিতীয়: বর্ষিতা দাস, তৃতীয়: সনম দে।

নৃত্য প্রতিযোগিতা:
বিভাগ ‘ক’ – বিশেষ পুরস্কার: সম্রাজ্ঞী দাস।
বিভাগ ‘খ’ – প্রথম: সমৃদ্ধা দাস, দ্বিতীয়: প্রিয়া দাস, তৃতীয়: সায়ন্তিকা রায়।
বিভাগ ‘গ’ – প্রথম: সুনেইনা সিনহা, দ্বিতীয়: পিউ দেব, তৃতীয়: প্রহী দে, যুগ্ম তৃতীয়: বেদপর্ণা ভট্টাচার্য।
বিভাগ ‘ঘ’ – প্রথম: দেবোলীনা বনিক, দ্বিতীয়: বিপাশা দেব, তৃতীয়: অপরূপা সাহা।
বিভাগ ‘ঙ’ – প্রথম: পিংকি পাল বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *