রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই : শিলচর শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কের বেহাল অবস্থাকে কেন্দ্র করে জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। রাস্তার বড় বড় গর্তে বৃষ্টির জল জমে বহু জায়গায় সড়ক কার্যত পুকুরের চেহারা নিয়েছে। এতে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার সমাজকর্মী মিঠুন নাথের নেতৃত্বে একদল ছাত্র শহরে অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ক্যাপিটাল পয়েন্ট, সেন্ট্রাল রোড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জলভর্তি গর্তের সামনে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ লেখা বোর্ড বসিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শহরের প্রধান সড়কগুলির দুরবস্থার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে গর্তগুলি জলে ঢেকে যাওয়ায় সেগুলির গভীরতা বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেল আরোহী, চারচাকা গাড়ির চালক এবং পথচারীরা প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে পড়ছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হলেও স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে শহরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলির সংস্কার এবং নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষোভকারীরা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন নাথ বলেন, গোটা উপত্যকার সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শিলচর শহরও তার বাইরে নয়। বিজেপি জেলা সদর কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে পুকুর সম গর্ত। অথচ প্রতিদিন বিজেপির নেতা-পাতিনেতারা নির্লজ্জ ভাবে যাতায়াত করেন বলে কটাক্ষ করেন মিঠুনবাবু। তিনি বলেন, দশ বছর ধরে বিজেপি সরকার থাকা সত্বেও কোন উন্নতি হয়নি উপত্যাকার। শুধু উন্নতি হয়েছে কিছু নেতাদের। যাঁরা আগে বাইক নিয়ে চলাচল করত আজ তাঁরা দামী বাহন নিয়ে চলছে। এভাবে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন সরকার ও শাসকদলকে তিনি।



