১৯ জুলাই : তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও ১০ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড, তবুও ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল ছিলেন এমবাপ্পে। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়েও অনেকটাই এগিয়ে গেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
শনিবার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে ডেকলান রাইস গোল করে ইংলিশদের এগিয়ে দেন। এটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। প্রথমার্ধেই চার গোল করে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধে চার গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতা ফ্রান্সের।
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফরাসিরা। এমবাপ্পে দুটি গোল করেন, একটি গোল আসে বারকোলার পা থেকে এবং যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলেও জালের দেখা পান। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক এবং শেষদিকে জুড বেলিংহ্যামের গোল ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ করে দেয়। ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে করা গোলটি ছিল এমবাপ্পের এবারের বিশ্বকাপে দশম গোল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড। একই সঙ্গে চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা ১০ এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলারের পর এক আসরে ১০ গোল করা প্রথম ফুটবলারও হলেন এমবাপ্পে।
গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এমবাপ্পে এখন সবচেয়ে এগিয়ে। তার ঝুলিতে ১০ গোল, আর মেসির রয়েছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। তবে ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসির সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে। অন্তত দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট কিংবা হ্যাটট্রিক করতে পারলে গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। অন্যথায় বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুইবার গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি গড়বেন এমবাপ্পে।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম। ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে এবারের আসরে তার গোলসংখ্যা হয়েছে ৭, যা এক আসরে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় তিনি নরওয়ের আরলিং হালান্ডকে পিছনে ফেলেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের গোলসংখ্যা ৬টি করে।



