নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছল প্রত্যন্ত পরিবারের দোরগোড়ায়, রক্ষণাবেক্ষণে জনসাধারণের সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী
মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২ অক্টোবর : সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের লোয়াইরপোয়া উন্নয়ন খণ্ডের দক্ষিণ প্রান্তে অসম-মিজোরাম-ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা বালিপিপলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জল জীবন মিশন প্রকল্পের জল অর্পণ কর্মসূচির সূচনা হয়। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ফিতা কেটে এবং পাম্পের স্যুইচ টিপে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি প্রকল্পের জল সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন এবং সরবরাহ করা জল পান করে তার গুণগত মানও সরেজমিনে যাচাই করেন। উপস্থিত আধিকারিকরাও জল সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রকল্পের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।
প্রত্যন্ত বালিপিপলা এলাকার বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন জলস্রোতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বাড়ির কাছেই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছনোয় স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। এই প্রকল্পের ফলে বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের দূরবর্তী উৎস থেকে জল সংগ্রহের জন্য সময় ও শ্রম ব্যয় অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে নিরাপদ পানীয় জলকে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারের কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

উল্লেখ্য, ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ উপলক্ষে অসমের বিভিন্ন প্রান্তে একই দিনে ৯২টি জল জীবন মিশন প্রকল্প জনগণের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি জেলার মোট ১৫,৮৯২টি পরিবার এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। প্রকল্পের পরিকাঠামো নিজেদের সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নিয়মিত জল-শুল্ক বা মাসিক ট্যারিফ প্রদানে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি কো-ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার ত্রিদিব রায়, লোয়াইরপোয়া উন্নয়ন খণ্ডের বিডিও যোগান্ত কালোয়ার, শ্রীভূমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিলকুমার দ্বিপাঠি-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।



