শ্রীভূমিতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, পাথারকান্দিতে আকাশ থেকে বিশাল বরফখণ্ডে চাঞ্চল্য

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি
বরাক তরঙ্গ, ২১ এপ্রিল : কালবৈশাখীর ভয়াবহ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল শ্রীভূমি জেলার বদরপুর ও পাথারকান্দি সহ একাধিক এলাকা। সোমবার ভোররাতে ঝড়ের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পাথারকান্দিতে আকাশ থেকে বিশাল আকৃতির রহস্যময় বরফখণ্ড পড়ার ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য ও কৌতূহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর প্রায় ৪টার দিকে আচমকা প্রবল ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়ায় মধুরবন্দ নাগপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঝড় থামার পরই ঘটে এক বিরল ঘটনা। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা বাইরে বেরিয়ে এসে একটি ফাঁকা জায়গায় বিশাল বরফখণ্ড পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এটি সাধারণ শিলাবৃষ্টি নয়, বরং অস্বাভাবিকভাবে বড় আকারের বরফের চাকা। বরফখণ্ডটি মাটিতে পড়ে কয়েক টুকরো হয়ে যায় এবং সবচেয়ে বড় অংশটির ওজন প্রায় ১০ কেজি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় কৌতূহলী মানুষ।

এদিকে বদরপুর এলাকার দক্ষিণাংশেও ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বছলা, মর্জাৎকান্দি, চিনিপাতন, বাশাইল, শিবরচক, কাবুলখা টিলা, বাসিরগ্রাম, মেদল, কামরাঙ্গী ও গুড়ামারা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা, মির্জাপুর, লামাজুয়ার ও মহাকল গ্রাম থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় ২১টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং বহু স্থানে বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। দক্ষিণ বদরপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি, ফলে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

প্রাথমিক হিসেবে বদরপুর সার্কল থেকে জানা গেছে, এই ঝড়ে প্রায় ৩০০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *