মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ এপ্রিল : বৃহত্তর কটামনি এলাকার কটনপুর গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কটামনি এম.ভি. স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাস্টার আব্দুল জব্বার আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫-৫০ মিনিটে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৭ বছর।
প্রয়াত শিক্ষাবিদ রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই পুত্র, তিন কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণমুগ্ধ মানুষ। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই কটামনি এলাকা ও আশপাশের গ্রামগুলিতে গভীর শোকের আবহ নেমে আসে।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কটনপুরে তাঁর নিজ বাসভবনে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী অশ্রুসজল চোখে প্রিয় শিক্ষককে শেষ বিদায় জানান। অনেকেই তাঁকে সৎ, নীতিবান ও শিক্ষানুরাগী মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে শিলচরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও পরে আবার অসুস্থতা বাড়লে বাজারিছড়া মাকুন্দা মিশনারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষপর্যন্ত তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাস্টার আব্দুল জব্বার শুধু একজন শিক্ষকই নন, ছিলেন আদর্শ মানুষ গড়ার এক নিবেদিতপ্রাণ কারিগর। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। বিনয়ী, সৎ ও মানবিক এই ব্যক্তিত্ব জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন শিক্ষার প্রসার ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে।
এলাকাবাসীর মতে, তাঁর প্রয়াণে সমাজ এক আলোকবর্তিকাকে হারালো। এই শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয় এবং তাঁর মৃত্যু গোটা এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টায় কটনপুর মাজারে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।



