১৫ মার্চ : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সরকার একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তগুলো এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নিয়ে এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং একটি চুক্তির জন্য যোগাযোগও করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি পরিত্যাগ করা। অতীতেও তিনি একই দাবি তুলেছিলেন। যদিও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব কম দেখা গেছে এবং তাঁর বক্তব্যও খুব বেশি শোনা যায়নি। সম্প্রতি তাঁর নামে যে বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে, সেটিও তিনি নিজে পড়েননি বলে ট্রাম্প দাবি করেন।
সামরিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন উড়ন্ত যন্ত্র তৈরির বহু কারখানা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, এসব স্থাপনার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরানের নৌবাহিনীর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। তবে ইরান এখনও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা সমুদ্র মাইন ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।




