মণিপুরে অবরোধ-ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন, দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকেই মৃত্যু চালকের, ক্ষোভ

Spread the news

কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ১২ আগস্ট :
মণিপুরে জাতীয় সড়কে একের পর এক ধস এবং রাস্তা অবরোধের জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহায়করা। প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে লক্ষীপুর-জিরিঘাট ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েক হাজার পণ্যবাহী লরি। দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণে খাবার, পানীয় জল ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থের অভাবে অনেক চালক ও সহায়ক পর্যাপ্ত খাবারও জোগাড় করতে পারছেন না।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের ভিতরে এক চালকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে সহকর্মীরা ওই চালককে ডাকতে গিয়ে কোনও সাড়া না পেয়ে শরীরে হাত দিয়ে দেখেন, তিনি আর জীবিত নেই। খবর ছড়িয়ে পড়তেই অন্যান্য ট্রাকচালকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে তাঁরা মৃতদেহটি জিরিঘাট প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃত চালকের নাম নাগিনা কুমার মাহাতো (৩৫)। তাঁর বাড়ি বিহারের নারায়ণপুরে। খবর পেয়ে জিরিঘাট থানার ওসি রানা নাথের নেতৃত্বে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে।

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাকচালকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মণিপুরের অশান্ত পরিস্থিতির কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তাঁদের অমানবিক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাজ্যের মানুষের কাছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন বলেও জানান তাঁরা।

চালকদের প্রশ্ন, একজন ট্রাকচালকের মৃত্যুর দায় কে নেবে এবং তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাঁরা কেন্দ্র ও মণিপুর সরকারের কাছে মৃত চালকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজ্য সরকারের কাছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে আর মণিপুরে প্রবেশ করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *