ঐতিহ্য ও সাত্ত্বিকতার আবহে কালাছড়া নেতাজিপল্লীতে দুর্গোৎসব সম্পন্ন, দ্বাদশ বর্ষে অভিনব আয়োজন

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।  
বরাক তরঙ্গ, ২৩ অক্টোবর : সাবেকি বাঙালিয়ানা, ধর্মীয় নিষ্ঠা ও সাত্ত্বিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটল বাজারিছড়ার কালাছড়া নেতাজিপল্লী সার্বজনীন কালীবাড়িতে। এবছর দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ করা এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে এলাকায় ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির আবহ। অভিনব প্রতিমা নির্মাণ, শিশুদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং ঐতিহ্যবাহী বিসর্জন পর্ব এবারের পূজাকে বিশেষ মাত্রা দেয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান মেনে সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক পরিবেশে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়। পুজোর পাঁচটি দিনই মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত মহাপ্রসাদ গ্রহণের জন্য ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মহানবমীর সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মণ্ডপ চত্বর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নৌকার আদলে নির্মিত অভিনব প্রতিমা। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে সুসজ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর আগমন ঘোটকে হওয়ায় তাঁকে ঘোড়ার উপর উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, দেবীর গমন নৌকায় হওয়ায় প্রতিমার সামগ্রিক কাঠামো নৌকার আদলে তৈরি করা হয়। পাথারকান্দির ভোলানাথ শিল্পালয়ের মৃৎশিল্পী বাপ্পু আচার্য ও কুটু আচার্যের শিল্পনৈপুণ্যে নির্মিত এই প্রতিমা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

বিজয়া দশমীর বিশেষ আয়োজনও ছিল নজরকাড়া। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে ছোট ছোট শিশুদের শিব, গৌরী, অসুরসহ বিভিন্ন দেবদেবীর সাজে সাজিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। কলাবউকে সঙ্গে নিয়ে শিশুদের এই নগর পরিক্রমা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এতে শিবের ভূমিকায় দেবরাজ সূত্রধর, গৌরীর সাজে সোনালী দাস, অসুরের ভূমিকায় স্বর্ণরূপ দাস, লক্ষ্মী রাই সূত্রধর, সরস্বতী রূপালী দাস, কার্তিক আর্য সূত্রধর এবং গণেশের ভূমিকায় সায়ন পাল অংশ নেয়।

প্রতিমা নিরঞ্জনের দিন পুরুষ ও মহিলারা সাবেকি বাঙালি পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবের শেষ পর্বে যোগ দেন। ঢাকঢোলের তালে গোটা এলাকা পরিক্রমা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কালাছড়া বিসর্জন ঘাটে লঙ্গাই নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। পূজার পুরোহিত বিধান ভট্টাচার্যের পৌরোহিত্যে যাবতীয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পূজা পরিচালনায় গৌতম পাল, দীপঙ্কর দেব, দীপ্ত দেব, রানা সূত্রধর, কানাইলাল রবিদাস, হীরা সূত্রধর, কমলাকান্ত পাল, নিবাস নাথ, সুজিত পাল, রিমন পোদ্দার, জয়দীপ দাস, জ্যোতিষ দাস, অলীক সূত্রধর, রোহিত সূত্রধর, দীপেন সূত্রধর, জিত দাস, দেবস্মিতা দে ও বিপাসা সূত্রধরসহ অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কালাছড়া নেতাজিপল্লী সার্বজনীন কালীবাড়ি কমিটির সভাপতি অজয় সূত্রধর ও সম্পাদক জন্মজিত দাস এলাকাবাসী, ভক্তবৃন্দ এবং সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *