
৩০ অক্টোবর : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়া প্রাক্তন বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সৌরির রহস্যমৃত্যু ঘটল। দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে এক বন্ধুর ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তাঁর ভাসমান দেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা।
তাহসিফের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের সদস্যরা একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বাবা এনায়েতুল করিমের দাবি, তাঁর ছেলে আত্মহত্যা করতে পারেন না। ঘটনার দিনও মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন তাহসিফ। ফলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃতের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঢাকা জেলা নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার জানান, মৃতদেহের বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনও আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে তিনি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। তদন্তের অগ্রগতির পরই এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তাহসিফ সৌরি। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অনেকের কাছে তিনি দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচিতি পান। ফলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে এর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের পর ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলে এবং কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অনেকে তাহসিফের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
তবে তাহসিফের মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এই রহস্যের সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



