বরাক তরঙ্গ, ২৬ নভেম্বর : অনুমতি ছাড়া মাঠে কীভাবে চলছে এক্সপোর নির্মাণ কাজ এনিয়ে শিলচর স্পোর্টিং ক্লাবকে শোকজ করল প্রশাসন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেলার প্রস্তুতির কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি পেগু। মাঠে গিয়ে সরেজমিনে সবকিছু খতিয়ে দেখেন। এর পরবর্তীতে এ নিয়ে ক্লাবের সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে শো-কজ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি বিনেই বাণিজ্য মেলা বা এক্সপোর জন্য দোকানপাট তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। কেন এমনটা করা হলো, চিঠি পাওয়ার দু’দিনের মধ্যে লিখিতভাবে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
এদিকে, শিলচর স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে কোষাধ্যক্ষ সত্যজিৎ দাস এক বিবৃতিতে স্পষ্টীকরণ দিয়ে দাবি করেছেন, ফুটবল অ্যাকাডেমির সঙ্গে তাদের মাঠভাড়ার চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৮ সালে ক্লাবের সঙ্গে ২৫ বছরের জন্য মাঠ ভাড়া দেওয়া নিয়ে চুক্তি হয়েছিল ফুটবল অ্যাকাডেমির। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে। এরপর আর ফুটবল অ্যাকাডেমি কোনও চুক্তি করেনি। বছর দুয়েক আগে অ্যাকাডেমিকে মৌখিকভাবে বলা হয়, যেহেতু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাই তাদের আর ক্লাবের মাঠ ব্যবহার করা উচিত নয়। তবুও সৌজন্যবশত মাঠের একপাশে থাকা ছোট অংশে প্রশিক্ষার্থীদের অনুশীলনে বাধা দেওয়া হয়নি। এক্সপোর আয়োজকদের এখনও ওই অংশ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা প্রশিক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য খোলা রয়েছে।
সত্যজিৎবাবু বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ কিছুদিন ধরে অন্যান্য মাঠে গিয়ে খুদে প্রশিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাই শিলচর স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে প্রশিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিককালেও খেলত বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এছাড়া অ্যাকাডেমির কাছে ক্লাবের অর্থও পাওনা রয়েছে। কিন্তু বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দেয়নি। অ্যাকাডেমি এবার আদালতে যাওয়ায় বিবৃতিতে উম্মা ব্যক্ত করে সত্যজিৎবাবু বলেন, তা আসলে আদালতকে বিপথে পরিচালিত করার প্রয়াস। সঙ্গে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে, এক্সপো আয়োজনকে ঘিরে মাঠের কী হবে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। দু’মাসের মধ্যেই মাঠকে ফের আগের মতোই গড়ে তোলা হবে।



