বরাক তরঙ্গ, ১৮ আগস্ট : ভাগা বাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই), অরুণোদয়, রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভাগা বাজার আসাম গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের সামনে আয়োজিত এক গ্রামসভায় একাংশ গ্রামবাসী প্রকাশ্যে এই অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে রাজঘাট এলাকার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার নামে তাঁদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এমনকি আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরও উপভোক্তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাগা বাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী সাহেলা পারবিন। তাঁর দাবি, অভিযোগকারীদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা নন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে পঞ্চায়েতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের পক্ষে কারও কাছে প্রমাণ থাকলে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও তিনি মত দেন।

এদিনের গ্রামসভায় জেলা পরিষদের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন, ভাগা বাজার আঞ্চলিক পঞ্চায়েতের সদস্যার প্রতিনিধি সাবির আহমদ-সহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী সভায় অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনেকেই মাইকে বক্তব্য রেখে দাবি করেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য তাঁদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। কারও কারও অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাননি।
সভায় একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগও জমা দেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের অধিকার হওয়ায় এর বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের কোনও সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে ভাগা বাজার গাঁও পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত এবং বিষয়টি সিএম ভিজিলেন্সের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



