বরাক তরঙ্গ, ৯ মার্চ : সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে প্রাণ হারালেন ২৫ বছর বয়সি যুবক বিশ্বজিৎ সেন। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রবিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছতেই পশ্চিম কাটিগড়া সীমান্ত অঞ্চলের সৈদপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বজিৎ গুমড়া বাজারের একটি বেসরকারি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত বুধবার প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে বাইকে সাদিরখাল–হরিঠিকর পূর্ত সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। রাত প্রায় আটটার সময় বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে আমতলা বাজারে পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। এরপর গাড়ির চালক দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিশ্বজিৎকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় তাঁর বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাটিগড়া মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
মেডিক্যালে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রবিবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বিশ্বজিৎ। সোমবার ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্বজিতের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, তাঁর মা-বাবা দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী ও মাত্র ১৪ মাসের এক শিশু সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁর মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারটি। কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরিবার-পরিজন।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে ঘাতক গাড়িটির কোনও সন্ধান মেলেনি। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চালক পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। বিশ্বজিতের বাইকটি বর্তমানে গুমড়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ঘাতক গাড়ি ও চালককে খুঁজে বের করতে পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, মৃত বিশ্বজিতের বাড়ি পশ্চিম কাটিগড়া সীমান্ত অঞ্চলের লেভারপুতা জিপির সৈদপুর দ্বিতীয় খণ্ডে। এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি তরফে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।



