ইনস্টাগ্রামে বিজেপি-কে টক্কর দিতেই ভারতে ‘নিষিদ্ধ’ ককরোচ জনতা পার্টির X হ্যান্ডেল!

Spread the news

২১ মে : ভারতের যুব সমাজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ‘মিম’ (Meme) সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া এক নজিরবিহীন ডিজিটাল ঝড়কে কি থামানোর চেষ্টা শুরু হলো? ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের প্রতিবাদে তৈরি হওয়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)-র অফিশিয়াল X অ্যাকাউন্টটি বৃহস্পতিবার ভারতে ব্লক বা ‘উইথহেল্ড’  করা হয়েছে।

মজার বিষয় হলো, কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি-র অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলের ফলোয়ার সংখ্যাকে টেক্কা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) একে কর্তৃপক্ষের ‘সেলফ গোল’ বা আত্মঘাতী গোল হিসেবেই দেখছেন।

গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে এই ককরোচ জনতা পার্টির। আপাতদৃষ্টিতে একে একটি রসাত্মক বা ব্যঙ্গাত্মক ‘জেড জেনারেশন’ (Gen Z) ক্যাম্পেইন মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে বেকারত্ব, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস, এবং বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি যুব সমাজের চরম হতাশা।

বৃহস্পতিবার সকালেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপি (CJP)-র ফলোয়ার সংখ্যা কোটি (১০ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে যায়, যা বর্তমান শাসক দল বিজেপি-র অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের (৮.৭ মিলিয়ন) চেয়ে অনেক বেশি। যদিও কংগ্রেস এখনও ১৩ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার নিয়ে এগিয়ে রয়েছে, কিন্তু মাত্র ৪ দিনে একটি ব্যঙ্গাত্মক পেজের এই বিপুল জনপ্রিয়তা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানির সময়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের বেকার যুবক এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের একাংশকে ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) এবং ‘পরজীবী’ (Parasites)-র সাথে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক এবং আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী অভিজিৎ দিপকে এই মন্তব্যকেই প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে বেছে নেন।

অভিজিৎ জানান, “সংবিধানের রক্ষক খোদ প্রধান বিচারপতির মুখ থেকে যখন এই ধরণের মন্তব্য আসে, তখন তা বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হানে।” যদিও প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেন যে তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি কেবল জাল ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়।

নিজেদের ইশতেহারে ককরোচ জনতা পার্টি নিজেদের “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস” বলে অভিহিত করেছে। তবে তাদের ঠাট্টার আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি। সেগুলি হল,

প্রধান বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের পর রাজ্যসভার কোনও পদ দেওয়া যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে।
সংসদ এবং ক্যাবিনেটে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
দলবদলকারী রাজনেতাদের ওপর ২০ বছরের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের মালিকানা এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের অধিকারে সংস্কার আনতে হবে।

ইতিমধ্যেই এই ডিজিটাল আন্দোলনে পরোক্ষ সমর্থন বা কৌতুকপূর্ণ যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ। আপ (AAP) নেতা মণীশ সিসোদিয়াও এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ডিজিটাল দুনিয়ার এই প্রতিরোধ কেবল একটি সাময়িক ট্রেন্ড নাকি ভারতের আগামী দিনের তরুণ রাজনীতির নতুন রূপরেখা—তা সময়ই বলবে। তবে X অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, এই ‘অলস তেলাপোকাদের’ কামড় দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *