
বরাক তরঙ্গ, ৩০ অক্টোবর : রাজ্যে তোলপাড় সৃষ্টিকারী শ্রীভূমির হিন্দুস্হান ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনে দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনায় নির্বিচারে ব্যাপক ধরপাকড় এবং পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করার দাবি নিয়ে শুক্রবার সেখানকার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাত করে বিশদে কথা বলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের পদাধিকারীরা। ধৃতদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা। জেলা আয়ুক্তের মাধ্যমে পেশ করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে দাবি সংবলিত এক স্মারকপত্র।

বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় সমিতির সহসভাপতি সুবীর রায়চৌধুরী, শ্রীভূমি জেলা সমিতির সভাপতি সুবীরবরণ রায়, সহসভাপতি মাশুক আহমদ, সম্পাদক নন্দকিশোর বণিক, সহসম্পাদক নিরোজিত দাস, কোষাধ্যক্ষ অমৃতলাল বণিক, শহর সমিতির সম্পাদক নিলজকান্তি দাস প্রমুখ নিয়ে গঠিত বরাকবঙ্গের পদাধিকারী দলটি প্রথমে জেলা আয়ুক্তের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। নির্বিচারে ব্যাপক ধরপাকড় এবং পুলিশি নির্যাতনে জেলাসদরের জনমানসে যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে তার নিরসনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে অনেকটা নরম মনোভাব দেখান জেলাআয়ুক্ত প্রদীপকুমার দ্বিবেদি। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন বরাকবঙ্গের প্রতিনিধিরা। তাঁর মাধ্যমে পেশ করা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে দাবি সংবলিত স্মারকপত্রে সে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সঙ্গে এও উল্লেখ করা হয়, একতরফা হামলার কোনও ঘটনা নয় সেটি। দুই পক্ষের কতিপয় মাতাল যুবকের মধ্যে ঘটেছে মারপিটের ঘটনা অথচ নির্বিচারে একপক্ষের যুবকদের ধরপাকড় এবং পুলিশি নির্যাতন জারি রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে এর সুরাহা দাবি করা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে।

ধৃতদের পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানোনা হয় তাতে।ওই ঘটনায় রাজ্যব্যাপী সামাজিক মাধ্যমজুড়ে বাঙালিদের সম্পর্কে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করে স্বার্থান্বেষী মহল ভাষার নামে রাজ্যের দুই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। হিন্দুস্থান ক্লাবের ভাসানযাত্রায় প্রায় পুরো সময় ধরে আদরকোণার বিহুশিল্পীরা সঙ্গীত-নৃত্য পরিবেশন করেন বলে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা স্মারকপত্রে উল্লেখ করে জানানো হয়, দুই পক্ষের মারপিটের ঘটনাটি ঘটে একেবারে অন্তিমপর্বে এবং বাঙালিদের জনসমক্ষে হেয় করতে বিহুশিল্পীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে ভিত্তিহীন মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যব্যাপী বাঙালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যান্যদের মধ্যে এতে স্বাক্ষর করেন বরাকবঙ্গের কেন্দ্রীয় সভাপতি সতু রায়, উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ, বরাকবঙ্গের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ড. সব্যসাচী রায়, শ্রীভূমি শহর সমিতির সভাপতি সৌমিত্র পাল প্রমুখ।
এদিকে, জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার সময় নির্বিচারে একতরফা ব্যাপক ধরপাকড় বন্ধ করার দাবি জানান বরাকবঙ্গের পদাধিকারীরা। ধৃতদের পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের মুক্তির বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এসএসপি লীনা দোলে জানান,বিষয়টি তিনি নিজে খতিয়ে দেখছেন।ধৃতরা যাতে আদালতে জামিনে মুক্তি পান সে বিষয়ে পুলিশ যত্নবান থাকবে। ঘটনাটি অসমিয়া -বাঙালি বিদ্বেষের কোনও ঘটনা নয় বলে এদিন ফের উল্লেখ করেন তিনি। এসএসপি দোলে পরবর্তীতে পুজো আয়োজকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সম্ভব হলে ডিজে পরিহার করার চেষ্টা করতে বলেন তিনি। সর্বোপরি আইন -শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তোলে না নিয়ে প্রশাসনিক অনুমতি থাকার দিনগুলিতে দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনপর্ব সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেন এসএসপি।বরাকবঙ্গের পদাধিকারীরা তাঁকে তাঁর ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বলেন, শুরু থেকে তিনি যে নজরে ঘটনাটি দেখেছেন তা রাজ্যব্যাপী মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক মনোভাব ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সুশীল সমাজের তিন শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এদিনের সে কার্যসূচি সম্পন্ন করে বরাকবঙ্গ।বহু মা-বোন সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের নিকট আত্মীয়দের মু্ক্তির দাবিতে বরাকবঙ্গকে সচেষ্ট হওয়ার আর্জি জানান। অন্যদিকে, শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে জনগোষ্ঠী নির্বিশেষে জেলার যুবসমাজকে সবসময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বরাকবঙ্গের কর্মকর্তারা।



