ব্যাঙ্কে অসমিয়া-বড়ো ভাষাজ্ঞান বাধ্যতামূলক
বরাক তরঙ্গ, ২২ আগস্ট : এ রাজ্যে সরকারি -বেসরকারি নিযুক্তিতে বাঙালিরা ক্রমাগত উপেক্ষিত হচ্ছেন। এবার রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের অফিসার নিযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে একেবারেই ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংকে নিযুক্তি পেতে হলে এখন থেকে অসমিয়া ও বড়ো ভাষাজ্ঞান বাধ্যতামূলক। এ মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বরাক উপত্যকা সহ গোটা রাজ্যে ৮৪ জন ‘স্থানীয় ব্যাঙ্ক আধিকারিক’ নিযুক্তির জন্য যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে তাতেই এই শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বদলের দাবি তুলেছে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন।
এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক , রাজ্যের ভাষা আইনের পরিপন্থী এবং জনবিন্যাসের চরিত্রকে উপেক্ষার নজির বলে অভিহিত করে নিযুক্তির ক্ষেত্রে বাঙালি কর্মপ্রার্থীদের বঞ্চিত করার চলবে না বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে বরাকবঙ্গ। সংগঠনের পক্ষে চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল শিলচরে পিএনবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চিফ ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা ব্যাঙ্কের গুয়াহাটির জোনাল ম্যানেজারের উদ্দেশে এ মর্মে এক স্মারকপত্রও প্রদান করে অবিলম্বে বিহিত ব্যবস্থার দাবি রেখেছেন।
বরাকবঙ্গের কাছাড় জেলা সমিতির সভাপতি সঞ্জীব দেবলস্কর, মুখপাত্র গৌতমপ্রসাদ দত্ত, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল পাল ও কাছাড় জেলা সমিতির সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা পিএনবির আঞ্চলিক চিফ ম্যানেজার নারায়ণ কুমারের সঙ্গে দেখা করে তার হাতে স্মারকপত্র তুলে দিয়ে বলেছেন, পিএনবিতে নিযুক্তির ক্ষেত্রে অসমীয়া ও বডো ভাষা জ্ঞান নিয়ে বরাকবঙ্গের কোনও আপত্তি নেই। তবে এক্ষেত্রে বাংলাভাষাকে একেবারে ব্রাত্য রাখা হলো কেন। ভাষাজ্ঞানের অজুহাত দিয়ে বাঙালি কর্মপ্রার্থীদের নিযুক্তি ক্ষেত্রে বঞ্চিত করার কোনও বৈধ অধিকার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের নেই।
প্রতিনিধি দল স্পষ্টভাবে বলেছেন, ডিমাসা রাজসভার যুগ থেকেই বাংলা বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা।অসম সরকারি ভাষা আইন অনুসারেও বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা বাংলা। অন্যদিকে, ২০১১ সালের সেন্সাস প্রতিবেদন অনুসারে রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ বাংলা ভাষাভাষী, সংখ্যায় ৯০ লক্ষের অধিক। এ অবস্থায় নিযুক্তির ক্ষেত্রে রাজ্যের দ্বিতীয় গরিষ্ঠ সংখ্যক ভাষাভাষীর কর্ম প্রার্থীদের বঞ্চনা করা চরম-অগণতান্ত্রিক এবং আইনবিরুদ্ধ। রাষ্ট্রায়ত্ত পিএনবি যেহেতু একটি বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাঙ্কের কাজে স্থানীয় ভাষা জ্ঞান যেখানে সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক, সেখানে তা গায়ের জোরে খারিজ করে দেওয়ার চেষ্টায় সঙ্গতভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনতরো সিদ্ধান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বাস্তব স্থিতি বর্জিত। তাঁরা আশা ব্যক্ত করেছেন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জনবিন্যাসের বর্তমান চরিত্র অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।



