বরাক তরঙ্গ, ২ মার্চ : মাতৃভাষা মাধ্যমের সরকারি স্কুল রক্ষা, শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং অশিক্ষক কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার না করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্বচনী কাজে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন পঠনপাঠনে বাধা সৃষ্টি না করার দাবিতে সোমবার শিলচরের ডিমাসা ভবনে এক বিশাল শিক্ষা অভিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এআইডিএসও’র অসম রাজ্য কাউন্সিলের আহ্বানে আয়োজিত এই ‘বরাক উপত্যকা ভিত্তিক শিক্ষা অভিবর্তন’-এ তিন জেলার শতাধিক ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। এআইডিএসও’র অসম রাজ্য কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি স্বাগতা ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা অভিবর্তনে বক্তব্য রাখেন এআইডিএসও’র সর্বভারতীয় কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও অসম রাজ্য কাউন্সিলের সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য, সংগঠনের সর্বভারতীয় কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক ও ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সভাপতি রামপ্রসাদ আচার্য প্রমুখ। বক্তারা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের কথা তুলে ধরে বিষদ আলোচনা করেন।
হিল্লোল ভট্টাচার্য বলেন, কিছু দিন পূর্বে সংসদে এক সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে দেশের তিরানব্বই হাজার মাতৃভাষা মাধ্যমের সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন রাজ্যের ২৬৭০টি স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। অন্যদিকে ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা কম থাকার অজুহাতে ২০১৬ সালের পর রাজ্যের আট হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এও বলেছেন রাজ্যের ছাব্বিশ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পেছনে যে মূল কারণ শিক্ষকের অভাব এর সমাধান না করে সরকারি স্কুলগুলোকে একত্রীকরণের নামে বন্ধ করা হচ্ছে। তিনি সরকারের এই চরম শিক্ষা বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রামপ্রসাদ আচার্য বলেন, কোন দেশের শাসকরা চায় না দরিদ্র মানুষের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটুক। বর্তমানে শিক্ষাকে সরকার যেখানে কর্পোরেটদের জন্য পণ্য হিসেবে তুলে ধরেছে সেখানে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার যে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষকদের কাজ যেখানে পাঠদান করা সেখানে তাদের বিভিন্ন অ-শৈক্ষিক বা প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত করে পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০২০ প্রণয়ন করে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, ব্যক্তিগতকরণে দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার তিনি আহ্বান জানান।

আজকের অভিবর্তনের মুল প্রস্তাব উত্থাপন করেন এআইডিএসও’র আসাম রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক পল্লব ভট্টাচার্য এবং সমর্থনে বক্তব্য রাখেন অপর যুগ্ম সম্পাদক ও করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্ল। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করে মাসের পর মাস ক্লাস বন্ধ রাখার সরকারি নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন এআইডিএসও’র করিমগঞ্জ জেলা সভাপতি ও রাজ্য কাউন্সিলের ওয়ার্কিং কমিটির অন্যতম সদস্য সুজিত পাল এবং সমর্থনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য কাউন্সিলের ওয়ার্কিং কমিটির অন্যতম সদস্য জয়দীপ দাস। এছাড়াও শিলচর শহরের আইন শৃঙ্খলা উন্নত করার দাবিতে অপর একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন রাজ্য কাউন্সিলের ওয়ার্কিং কমিটি ও কাছাড় জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য শেফালী দাস, সমর্থনে বক্তব্য রাখেন কাছাড় জেলা সম্পাদক স্বপন চৌধুরী।

অভিবর্তনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন রাজ্য কাউন্সিলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও কাছাড় জেলা কমিটির সহ সভাপতি আপন লাল দাস এবং অভিবর্তনের শেষে বক্তব্য রাখেন রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত ভট্টাচার্য। অভিবর্তনে শিক্ষার অধিকার রক্ষায় এবং সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আগামী দিনে বরাক উপত্যকা জুড়ে আন্দোলন আরও তীব্রতর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।



