বরাক তরঙ্গ, ২৭ মার্চ : জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সংহতিকে সুদৃঢ় করতে নর্থ-ইস্টার্ন কাউন্সিল ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার ‘অষ্টলক্ষ্মী দর্শন’ কর্মসূচিতে শিলচর এসে পৌঁছলো ৪৪জনের যুবা দল। চার সংযোজকের নেতৃত্বে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের ৪০ জন শিক্ষার্থী এই যুবা দলের অংশ হিসাবে আগামী দশদিন এই অঞ্চল সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করবেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চেতনাকে ফুটিয়ে তোলা।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি নিবাসের প্রেক্ষাগৃহে এই যুবা দলকে অভ্যর্থনা জানান উপাচার্য রাজীব মোহন পন্থ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভূ-বিজ্ঞানী অধ্যাপক ত্রিলোচন সিং। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক অলক ত্রিপাঠি, স্কুল অব এডুকেশনাল সায়েন্সের ডিন তথা মদন মোহন মালব্য মিশন টিচার ট্রেনিং সেন্টারের ডিরেক্টর অধ্যাপক রামাইয়া বালাকৃষ্ণন।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘অতিথি দেব ভব’ উত্তর-পূর্ব ভারতের আতিথেয়তার মূল ভিত্তি। তিনি এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, ১৯৭৫ সালে সিকিম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ‘অষ্টলক্ষ্মী’ ধারণাটি জনপ্রিয়তা পায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে ভারতের সমৃদ্ধির আটটি স্তম্ভ বা ‘অষ্টলক্ষ্মী’ হিসেবে প্রায়শই অভিহিত করেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ত্রিলোচন সিং ১৯৭০-এর দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও অরুণাচল প্রদেশে কাটানো সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত সড়কপথে ১৬টি দেশ অতিক্রম করার রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প শুনিয়ে উপস্থিত তরুণদের অনুপ্রাণিত করেন। অধ্যাপক অলক ত্রিপাঠী উত্তর-পূর্ব ভারতের বীরত্বগাথা বর্ণনা করতে গিয়ে মহাভারতের উদাহরণ দেন। তিনি প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা ভগদত্তের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করেন। অধ্যাপক রামাইয়া. বালাকৃষ্ণন আসামের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির গভীরে মিশে থাকা ‘ভারতীয়ত্ব’ নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মসূচির নোডাল অফিসার তথা সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক এম গঙ্গাভূষণ বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিহীন অবস্থাতেও থাকতে হতে পারে, যাতে তাঁরা নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করে মাটির কাছাকাছি পৌঁছে এই অঞ্চলের আসল রূপটি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। এই কর্মসূচিতে মধ্যপ্রদেশ থেকে ড. নীরজ সিং গুর্জর ও ড. শালিনী কৌশিক, রাজস্থান থেকে ড. রিজুষ্ণা গগৈ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী বিকাশ বালি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।



