বরাক তরঙ্গ, ৩ মার্চ : কাছাড় জেলার বড়খলা বিধানসভা এলাকার জাটিঙ্গায় অবস্থিত একমাত্র পাথর কোয়ারিকে কেন্দ্র করে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ব্যাপক হারে পাথর উত্তোলনের ফলে বরাক উপত্যকার রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরটিআই-এ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তন্ময় পুরকায়স্থ। তাঁর দাবি, ‘জাটিঙ্গা মাইনর মিনারেল ইউনিট-১’ থেকে সরকারি অনুমোদন ছিল সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ কিউবিক মিটার পাথর উত্তোলনের। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ১৫ লক্ষ কিউবিক মিটারেরও বেশি পাথর তোলা হয়েছে।
তন্ময়ের অভিযোগ, ব্রডগেজ রেললাইন ও জাতীয় সড়কের একেবারে সংলগ্ন এলাকা থেকে দিনরাত নির্বিচারে পাথর উত্তোলন চলছে। এর ফলে সড়কের নীচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। খরস্রোতা জাটিঙ্গা নদীর স্রোতে আগামী বর্ষায় যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে গুরুত্বপূর্ণ রেল ও সড়কপথ, যা বরাকসহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই মহালদারের নেতৃত্বে একটি বনমাফিয়া চক্র এই অবৈধ খনন কার্য চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কাছাড় বন সংমন্ডলের ডিএফও-র হাতে একটি স্মারকপত্র তুলে দিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তন্ময়ের বক্তব্য, বন বিভাগের নাকের ডগায় এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চললেও বিভাগ কার্যত নীরব। যদিও ডিএফও দাবি করেছেন যে নির্ধারিত ৭ লক্ষ কিউবিক মিটারের মধ্যেই উত্তোলন হয়েছে, তবে আরটিআই-এ প্রকাশিত তথ্য সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।



