শ্রীভূমিতে রাজ্যের প্রথম লিগ্যাল এইড ক্লিনিক উদ্বোধন_____
বরাক তরঙ্গ, ২৮ ফেব্রুয়ারি : সমাজে অবহেলিত ও উপেক্ষিত প্রবীণ নাগরিকদের ন্যায়বিচার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করল স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি। শনিবার শ্রীভূমি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো রাজ্যের প্রথম ‘লিগ্যাল এইড ক্লিনিক’, যেখানে প্রবীণ নাগরিকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন। প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় এই উদ্যোগকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রীভূমি জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্লিনিকটির উদ্বোধন করেন গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি তথা স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির নির্বাহী সভাপতি মাইকেল জথনকুমা এবং একই আদালতের বিচারপতি ও শ্রীভূমি জেলার পোর্টফোলিও জজ মনীশ চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচারপতি মাইকেল জথনকুমা প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি দায়বদ্ধতা শুধু আইনি নয়, এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্য। তিনি আবেগঘন ভাষায় উল্লেখ করেন, যাঁরা তাঁদের জীবনের মূল্যবান সময় সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের বার্ধক্যে অবহেলা করা সভ্য সমাজের পরিচয় নয়। তিনি আরও বলেন, কোনো সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণপোষণ ও সম্মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আইনের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, বিচারপতি মনীশ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উপনিষদের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, পিতা-মাতা সন্তানের প্রথম শিক্ষক এবং তাঁদের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জানান, প্রবীণ নাগরিক কল্যাণ আইন, ২০০৭ অনুযায়ী পিতা-মাতাকে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট সন্তানের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রবীণদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও বিনোদনের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে মহকুমা ট্রাইব্যুনাল এবং জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে অবস্থিত আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির সদস্য সচিব দেবাশীষ ভট্টাচার্য জানান, অনেক প্রবীণ নাগরিক অজ্ঞতার কারণে তাঁদের আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এই ক্লিনিকে কোনো আইনজীবী নিয়োগ, কোর্ট ফি বা অর্থ প্রদানের প্রয়োজন নেই—একটি সাধারণ আবেদনপত্রের মাধ্যমেই আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে। সীমান্তবর্তী জেলা শ্রীভূমিতে এই ক্লিনিক চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা মুখ্য ন্যায় দণ্ডাধীশ বিদ্যাব্রত আচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ এএসবি লস্কর এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক নীলোৎপল পাঠক।
উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট লীনা দোলে, জেলা লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির সদস্য সচিব মুকুন্দ বড়ো, পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্র দেব, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভোকেটস বারের সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী, শ্রীভূমি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আতিকুল বারি চৌধুরী, সম্পাদক দুলু রঞ্জন দাসসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আইনজীবী।
অনুষ্ঠানের শেষে জেলা কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লিনিকের দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়। পাশাপাশি অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে হুইলচেয়ার ও হাঁটার লাঠি বিতরণ করা হয়। মানবিক উদ্যোগ হিসেবে পাঁচজন অসহায় মহিলার হাতে নগদ সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়, যাঁদের পরিবার দুষ্কৃতীদের হাতে স্বামী বা পুত্র হারিয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছে। পরে দুই বিচারপতি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভোকেটস বারে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সভায় অংশগ্রহণ করেন।



