২৬ ফেব্রুয়ারি : সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় এক নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ১০০ মিলিয়নের গণ্ডি স্পর্শ করল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর এই অসামান্য উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে মোদির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকেই আরও একবার প্রমাণ করল।
২০১৪ সালে প্রথম ইনস্টাগ্রামে পা রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গত এক দশকে তাঁর প্রোফাইলটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক অ্যাকাউন্টে পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মসূচী, বিদেশ সফর এবং জনসম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ছবি তিনি নিয়মিত শেয়ার করেন এই প্ল্যাটফর্মে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে ইনস্টাগ্রাম তাঁর জন্য এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন মোদি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফলোয়ার সংখ্যা ৪৩.২ মিলিয়ন, যা মোদির অর্ধেকেরও কম। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো (১৫ মিলিয়ন) এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা (১৪.৪ মিলিয়ন), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তায়িপ এরদোগান (১১.৬ মিলিয়ন) এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই (৬.৪ মিলিয়ন) অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিশ্বের পরবর্তী পাঁচজন প্রভাবশালী নেতার মোট ফলোয়ার সংখ্যাও মোদির একার ফলোয়ারের চেয়ে কম।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির ধারেকাছে কেউ নেই। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ১৬.১ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ১২.৬ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথাগত প্রচারের বাইরে বেরিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই কৌশলই মোদিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। এই ১০০ মিলিয়নের মাইলফলক কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং তাঁর বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।



