বরাক তরঙ্গ,২১ ফেব্রুয়ারি : ভারত ডিগনিটি অ্যাওয়ার্ড (বিডিএ) আয়োজকরা শিলচরের কাছাড় কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগিতায় বরাক উপত্যকার তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সাহিত্য, পরিবেশ এবং সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন হাইলাকান্দির বিশিষ্ট কবি আশুতোষ দাস, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরী এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী প্রদীপ দত্ত রায়। তাঁদের উত্তরীয়, স্মারক ও শংসাপত্র দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁদের নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁরা বৌদ্ধিক আলোচনাকে সমৃদ্ধ করেছেন, পরিবেশগত সচেতনতা জোরদার করেছেন এবং দক্ষিণ আসাম জুড়ে মানবিকতাবাদী চেতনা প্রসারের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। কবি আশুতোষ দাস বলেন এই ধরনের অনুষ্ঠান আঞ্চলিক কবিদের সাহিত্যসাধনায় উদ্ধুদ্ধ করবে। ড. পার্থঙ্কর চৌধুরী বলেন, প্রতিটি জাতির নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির মতোই পরিবেশেরও সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। সমাজকর্মী প্রদীপ দত্ত রায়ের পক্ষ থেকে তাঁর মেয়ে প্রথমা দত্ত রায় পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “সমাজ কর্মী হিসেবে তার পিতা প্রগতীবাদী এবং সামাজিক আন্দোলনের জন্য জীবনের দীর্ঘ সময় উৎসর্গ করেছেন তিনি। বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের জন্য কারাবরণ করেছেন তিনি। সততা, ত্যাগ, আত্মোৎসর্গ ও কর্ম নিষ্ঠার প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা।”
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজকর্মী স্বর্ণালী চৌধুরী, ড. সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, ড. অনূপ কুমার দে, জয়দীপ বিশ্বাস প্রমুখ। অতিথিদের উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তাদের উপস্থিতি বৃহত্তর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক উৎকর্ষ উদযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
প্রথমবারের মতো, কলকাতা-ভিত্তিক মিডিয়া হাউস নিউজ ম্যানিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদানের জন্য শিলচরে ভ্রমণ করেছিল, যা মহানগর কেন্দ্রগুলির বাইরেও প্রচার ও প্রসারের সূচনা করেছিল। নির্বাচন প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ, যিনি বৃহত্তর ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের যোগ্য ব্যাক্তিদের চিহ্নিত করেন।
বিডিএ নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান এবং নিউজ ম্যানিয়ার প্রধান সম্পাদক বর্ণালি বিশ্বাস, বরাক উপত্যকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাথে পুরস্কার বিজয়ীদের সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতার পার্ক হোটেলে মূল বিডিএ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলেও, শিলচর কাছাড় কলেজে অনুষ্ঠানটি ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পালিত হল। এই অনুষ্ঠানটি মূল অনুষ্ঠানের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যবাহী হয়ে উঠেছে। কাছাড় কলেজের বাংলা বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি মাতৃভাষার গৌরব এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের চেতনাকে সম্প্রসারিত করে। বাংলা বিভাগের প্রধান ড. সুদীপ কুমার দাস তাঁর বক্তব্যে জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় মাতৃভাষার গুরুত্ব ও ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের অপরিশোধ্য ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন।
ভারত ডিগনিটি অ্যাওয়ার্ড সেই ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর, যারা তাদের কর্মনিষ্ঠা ও দক্ষতার দ্বারা আঞ্চলিক সংস্কৃতি, সাহিত্য, পরিবেশ ও সমাজসেবায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তাদের সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সৃজনশীলতার স্বীকৃতি স্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদ সামসুদ্দিন এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীরা।



