অসমে একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৫ ফেব্রুয়ারি : লোকসেবা ভবন-এ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, অসমের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন মিলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গুয়াহাটি-এর রিং রোড প্রকল্পে কেন্দ্র অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে ৫,৭২৯ কোটি টাকা ব্যয় করবে। পাশাপাশি বরঝার লোকপ্ৰিয় গোপীনাথ বৰদলৈ আন্তঃৰাষ্ট্ৰীয় বিমানবন্দর থেকে জালুকবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি এলিভেটেড করিডোর নির্মাণ করা হবে, যা রিং রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে যুক্ত হবে। এছাড়াও কেন্দ্র সরকার গহপুর–নুমলীগড় সংযোগকারী ব্রহ্মপুত্র নদীর নিচে নির্মিতব্য টানেল প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টুইন-টিউব রেল-কাম-রোড টানেল নির্মাণে ব্যয় হবে ১৮,৬৬২ কোটি টাকা। গহপুর এবং নুমলীগড়-কে সংযুক্ত করা এই টানেল দেশের প্রথম রেল-কাম-রোড নদী সুরঙ্গ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় এ ধরনের টানেল হিসেবে বিবেচিত হবে। এই টানেলে রেলপথ, সড়কপথ এবং জরুরি নির্গমন টিউব থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শীঘ্রই কামাখ্যা মন্দির করিডোর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কামাখ্যা ধাম পর্যন্ত একটি রোপওয়ে নির্মাণ করা হবে, যা তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়া বাইহাটা চারিআলি থেকে তেজপুর পর্যন্ত চার লেন বিশিষ্ট জাতীয় সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অপেক্ষায়। একই সঙ্গে ২২,৮৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শিলচর–শিলং–গুৱাহাটী সংযোগকারী একটি হাই-স্পিড করিডোর নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের শিলান্যাস আগামী মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করবেন বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নুমলীগড়–গহপুর নদী সুরঙ্গ প্রকল্প কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই টানেল নির্মিত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে। প্রকল্পটি ভারত সরকার, সেনাবাহিনী, NHIDCL এবং রেল বিভাগের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই টানেল নির্মাণ করা হবে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। টানেলে দুটি পৃথক টিউব থাকবে—একটি রেলপথ এবং অন্যটি যানবাহনের জন্য। জরুরি পরিস্থিতিতে রেলপথ ব্যবহার করে যানবাহন চলাচলও সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *