আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় যক্ষ্মা রোগ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন হোজাইয়ে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৪ ফেব্রুয়ারি : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় যক্ষ্মা ও সংক্রামক রোগ বিষয়ক দু’দিনের জাতীয় স্তরের সম্মেলন আয়োজিত হলো হোজাইর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।  ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি দু’দিনব্যাপী আয়োজিত এই জাতীয় সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনটি প্রধানমন্ত্রীর যক্ষ্মামুক্ত ভারত গঠনের জাতীয় অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাটনগর পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিনয়কুমার শইকিয়া। বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ বলেন, যক্ষ্মা আজও দেশের জনস্বাস্থ্যের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু চিকিৎসা নয়, সময়োচিত নির্ণয়, পুষ্টি, জনসচেতনতা ও গবেষণাভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ নির্মূল সম্ভব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং তরুণ বিজ্ঞানীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যক্ষ্মামুক্ত ভারত গড়তে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের প্রয়োগ অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মানবেন্দ্র দত্তচৌধুরী বলেন, এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে গবেষণা, জ্ঞানবিনিময় এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য পেশ করেন সম্মানিত অতিথি শইকিয়া, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. সন্দীপ রত্ন প্রমুখ। প্রত্যেক বক্তাই এধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

দু’দিনের এই সম্মেলনে নতুন দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর পূর্ব পার্বত্য বিশ্ববিদ্যালয়, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচর মেডিক্যাল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে মোট ১০টি আমন্ত্রিত বক্তব্য উপস্থাপিত হয় ও ১১টি ভিন্ন রাজ্য থেকে আগত গবেষকদের ৫৩টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। যক্ষ্মা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নির্ণয়, চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য নীতির ওপর বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *