৯ ফেব্রুয়ারি : রাশিয়ায় বিদেশি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্নচিহ্ন। শনিবার গভীর রাতে বাশকোর্তোস্তান প্রদেশের উফা শহরে স্টেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি ছুরি চালানোর ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন চার জন ভারতীয় পড়ুয়া। এই নৃশংস হামলার সময় অভিযুক্ত কিশোর নাৎসি স্লোগান দিতে দিতে হস্টেলের দেওয়ালে রক্ত দিয়ে স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারী মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোর। সে নিষিদ্ধ নব্য নাৎসি সংগঠন ‘ন্যাশনাল সোশালিজম বা হোয়াইট পাওয়ার’ এর সদস্য। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সংগঠনকে ২০২১ সালেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
ঘটনার সময় ওই হস্টেলে মূলত বিদেশি ছাত্রছাত্রীরাই থাকতেন। আচমকা ছুরি হাতে ঢুকে পড়ে কিশোরটি নির্বিচারে হামলা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় সে ‘হলোকস্ট’ এর সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের নির্দেশে ইউরোপে ইহুদিদের উপর চালানো গণহত্যা ইতিহাসে ‘হলোকস্ট’ নামে পরিচিত।
হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযুক্তকে আটক করতে গিয়ে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান পুলিশকর্মীরা। সেই সময় দুই জন পুলিশ আধিকারিকও ছুরিকাহত হন। প্রশাসনের দাবি, গ্রেফতারের সময় অভিযুক্ত নিজেও ছুরি দিয়ে আত্মঘাতী আচরণ করে রক্তাক্ত হয়।
বর্তমানে চার জন ভারতীয় পড়ুয়া, আহত দুই পুলিশকর্মী ও অভিযুক্ত কিশোর সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাশিয়ার স্বাস্থ্য দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আহত পড়ুয়াদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল। একই সঙ্গে হামলাকারী কিশোরের অবস্থাও সংকটজনক বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে হস্টেলের দেওয়ালে রক্তে আঁকা স্বস্তিকার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিদেশি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও উগ্রপন্থী হিংসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে রাশিয়ায়।



