২ জানুয়ারি : ইরানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চরম সহিংসতার রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যও রয়েছেন। ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানে সবথেকে বড় গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে তেহরানের বাজারগুলোতে ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। বর্তমানে ইরানি মুদ্রার (রিয়াল) মান রেকর্ড পতন হয়েছে, খোলা বাজারে ১ মার্কিন ডলারের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫২ শতাংশ। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এই ক্ষোভ এখন রাজধানী ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
সবথেকে ভয়াবহ সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে তেহরান থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে লরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া লোরদেগান শহরে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কুহদাশতে ২১ বছর বয়সী এক বাসিজ (প্যারামিলিটারি) সদস্য নিহত হয়েছেন বলে সরকারি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
বিক্ষোভকারীরা ‘একনায়কতন্ত্রের পতন চাই’ এবং ‘মোল্লাদের ইরান ছাড়তে হবে’—এর মতো তীব্র সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। তেহরানের মালার্ড জেলা থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



