
৮ নভেম্বর : দেশ থেকে নকশালদের নির্মূল করে দিয়েছে সেনা। কিন্তু বিপদ যায়নি। ‘দিমাগি নকশালরা’ এখনও দেশের বহু প্রতিষ্ঠানের মাথায় বসে রয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বস্তারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনে গিয়ে তিনি বললেন, ‘নকশালরা ভোট পর্যন্ত দিতে দিত না।’ নকশাল দমনে নিরাপত্তারক্ষীদের সাহস ও আত্মত্যাগেরও প্রশংসা করেন তিনি।
মোদী সাধারণত দীপাবলি জওয়ানদের সঙ্গেই কাটান। সেই ২০১৪ থেকে এটাই রীতি। গত বছরে কাটিয়েছিলেন গোয়ায়, INS বিক্রান্তে। ২০২৬-এর ৩১ মার্চের মধ্যে ‘মাওবাদীমুক্ত ভারত’ গড়ার শপথ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এ বার তাই মোদী বেছে নিয়েছেন এক সময়ে ‘মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল’ বলে পরিচিত বস্তারকে। করণপুরে কোবরা বাহিনীর অপারেশনস বেসে দাঁড়িয়ে মোদী বলে দিলেন, ‘মাওবাদীদের নির্মূল করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও বিপদ যায়নি। দিমাগি নকশালরা বহু প্রতিষ্ঠানে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে।’

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংকল্প ও সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘সঠিক নীতি, দৃঢ় সংকল্প এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সাহস ও সংযমের জয়।’

মাওবাদ মোকাবিলায় পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে অভিযোগ মোদীর। ২০০৪ থেকে ২০১৩-র পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘সেই সময়ে প্রতি বছর যত নকশাল খতম হতো, তার থেকে বেশি নিহত হতেন নিরাপত্তারক্ষীরা।’ তাঁর দাবি, ‘মাওবাদীদের সমস্যাকে নিরাময়-অযোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখত তৎকালীন সরকার।’ এই প্রসঙ্গেই ২০১০-এ দান্তেওয়াড়া হামলার কথা টেনে মোদী বলেন, ‘নকশালদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭৬ জন CRPF জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল।’

২০০৪ থেকে ২০১৩, এই নয় বছরে মধ্যে ছত্তিসগড়ে এক হাজারেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়েছিল বলেও দাবি করে মোদী বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দিত না। রেলওয়ে ট্র্যাক উড়িয়ে দিত। এমনকী মোবাইলের টাওয়ার বসানোতেও আপত্তি ছিল ওদের।’ মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে এই জায়গা থেকে বের করে আনার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের ধন্যবাদ জানান মোদী। সঙ্গে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘দেশের ভিতরের নিরাপত্তা আটুট থাকলে বাইরের শত্রুরা কখনও সফল হতে পারে না। কিন্তু উল্টোটা হবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পায়।’



