ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পরিবহন বিভাগ ও পুলিশকে ভর্ৎসনা, ছাড়িয়ে দিলেন আটকে রাখা লরিগুলি
বরাক তরঙ্গ, ৪ নভেম্বর : ওভারলোড ট্রাক আটকের নামে ছয় নম্বর জাতীয় সড়কে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পরিবহন বিভাগের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সরব হলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। বুধবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবহন বিভাগের আধিকারিক ও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর হস্তক্ষেপে আটকে রাখা লরিগুলি ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে কাটিগড়ার মধুয়া ও টিকরপাড়া এলাকায় ওভারলোডের অভিযোগে একের পর এক ট্রাক আটকে রাখা হচ্ছিল। এর জেরে বুধবার ভোর চারটা থেকে মধুয়া থেকে কাতিরাইল পর্যন্ত ছয় নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘ লরির সারি তৈরি হয়। ফলে গোটা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন স্কুল পড়ুয়া, নিত্যযাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এমনকি রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকে পড়ে বলে অভিযোগ।

সকাল সাড়ে নটা নাগাদ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিবহন বিভাগের আধিকারিক ও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে কড়া অবস্থান নেন বিধায়ক। এরপর তাঁর হস্তক্ষেপে আটকে রাখা লরিগুলি ছেড়ে দেওয়া হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে যান চলাচল।

এদিকে, রাতের অন্ধকারে ১,৭০০ টাকার বিনিময়ে টোকেন দিয়ে ওভারলোড ট্রাক চলাচলের অনুমতি দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাতারাতি গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়ম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর সঙ্গে পরিবহন বিভাগের একাংশের কর্মী, পুলিশ এবং দালালচক্রের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ জানান, গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নজরে আনা হবে। পাশাপাশি এই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবেন তিনি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি উপেক্ষা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না বলেও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন বিধায়ক।



