গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো জেলা পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় শিশু বিজ্ঞান সমারোহ

Spread the news

শতাধিক প্রকল্পের প্রদর্শনী, বিজ্ঞানভিত্তিক মতবিনিময় ও ‘বরাক চাইল্ড সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান

বরাক তরঙ্গ, ৩০ অক্টোবর : বিজ্ঞানমনস্কতা, অনুসন্ধিৎসা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গত ২৯ অক্টোবর গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৩২তম রাষ্ট্রীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসের জেলা পর্যায়ের সমারোহ। কাছাড় জেলা অর্গানাইসিং কমিটি-র উদ্যোগে এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সমারোহে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও গবেষণামূলক প্রকল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে এক প্রাণবন্ত বৈজ্ঞানিক পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। পর্যায়ক্রমে রাজ্যিক এনসিএসসি-এর পতাকা উত্তোলন করেন রাজ্যিক কমিটির সহ-সভাপতি অনিল পাল, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, জেলা এনসিএসসি-র পতাকা উত্তোলন করেন ড. বিভাস দেব এবং সায়েন্স ট্রায়াল অর্গানাইজেশনের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সম্পাদক বিভূতিভূষণ নাথ। জেলা NCSC-এর অ্যাকাডেমিক চেয়ারপার্সন ড. অপ্রতীম নাগও পতাকা উত্তোলনে অংশগ্রহণ করেন।

অতিথিবরণ, সংগীত পরিবেশন ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এক উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এরপর শিশু বিজ্ঞানী অধ্যয়ন বণিক উপস্থিত সকলকে বিজ্ঞানমনস্কতা ও অনুসন্ধিৎসার শপথবাক্য পাঠ করায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর লুৎফুর রহমান বড়ভূইয়া, জেলা এনসিএসসি-এর কার্যকরী সভাপতি রাগীব হোসেন চৌধুরী, জেলা সমন্বয়ক পল্লবকান্তি দে, জেলা  অ্যাকাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ড. অরিন্দম রায়, আর্যভট্ট সায়েন্স সেন্টার জেলা সমন্বয়ক সুবীর অধিকারীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিশুদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীল গবেষণার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে শিশু বিজ্ঞানী, অভিভাবক, বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত গাইড টিচার ও মূল্যায়নকারীদের উপস্থিতি সমারোহকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা সভাপতি ডঃ বিভাস দেব ও ধন্যবাদসূচক বক্তব্য প্রদান করেন জেলা সমন্বয়ক পল্লব কান্তি দে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিজ্ঞান অনুসন্ধানের একাডেমিক জেলা সমন্বয়ক অনন্যা দত্ত।

এরপর শুরু হয় সমারোহের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব—প্রকল্প উপস্থাপনা ও মূল্যায়ন। সুসজ্জিত দশটি পৃথক কক্ষে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শিশু বিজ্ঞানীরা শতাধিক বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। প্রকল্পগুলির বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা এবং শিশু বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানী মনোভাব উপস্থিত মূল্যায়নকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। শিশু বিজ্ঞানীদের নির্বিঘ্নে প্রকল্প উপস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এবং জেলা এনসিএসসি-এর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ নিরলস পরিশ্রম করেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টেকনিক্যাল সেশন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। Written Evaluation এর জন্য ড. সৌমিত্রনাথ মনজুরুল হক বড়ভূইয়া, মানিক চক্রবর্তী এবং আরো বিশিষ্ট মূল্যায়নকারীদের মূল্যায়নের পর সমারোহের রেজাল্ট আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ঘোষণা করেন।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞানভিত্তিক এক আকর্ষণীয় মতবিনিময় পর্ব। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই পর্বটি উপস্থাপনা করেন জেলা ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড সায়েন্স টিচার্স ফোরামের সভাপতি যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস। তাঁকে সহযোগিতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নিরূপম দেব ও রাগীব হোসেন চৌধুরী। এ পর্বে বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনা ও বিশেষ উপস্থাপনা শিশু বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিবেশিত বিজ্ঞান ম্যাজিক শিশুদের আনন্দিত ও অভিভূত করে।এই বিজ্ঞান মত বিনিময় অনুষ্ঠানে ‘ক্ষুদে বিজ্ঞানী’ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করে স্বামী বিবেকানন্দ বহুমুখী বিদ্যালয়ের রোহিত আহমেদ লস্কর, ডিএনএইচএস স্কুলের অন্বেষা রায়, মার্কাস পাবলিক স্কুলের আনসার আলি লস্কর, মহর্ষি বিদ্যা মন্দিরের জান্নাত কুরেশি এবং শিলচর কলেজিয়েট স্কুলের সর্বাত্ত দেব।

সমারোহের শেষ পর্বে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চিররঞ্জন ভট্টাচার্য, সাইন্স ট্রায়াল অর্গানাইজেশন এর সভাপতি প্রদীপ বণিক, জেলা এনসিএসসি-এর সভাপতি ড. বিভাস দেব, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ, এস টি ও-র সম্পাদক বিভূতিভূষণ নাথ এবং এনসিএসসি রাজ্যিক কমিটির সহ-সভাপতি অনিল পালসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এই পর্বে মূল্যায়নকারী, গাইড টিচার এবং অংশগ্রহণকারী সকল শিশু বিজ্ঞানীর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এবারের “বরাক চাইল্ড সায়েন্টিস্ট অ্যওয়ার্ড” ‘প্রদান করা হয় ৩১তম রাষ্ট্রীয় শিশু বিজ্ঞান সমারোহের রাজ্যিক স্তরের শিশু বিজ্ঞানী অধ্যয়ন বণিককে। সমাপনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা সমন্বয়ক পল্লব কান্তি দে।

শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, নতুন কিছু জানার আগ্রহ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী মানসিকতা বিকাশের এক অনন্য মঞ্চ হিসেবে এবারের জেলা পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় শিশু বিজ্ঞান সমারোহ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আয়োজক কমিটি, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়, গাইড টিচার, মূল্যায়নকারী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিনব্যাপী এই বিজ্ঞান উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *