বরাক উপত্যকায় আগামী বছর থেকে চালু হবে বিশেষ রাজমা মিশন, বিনামূল্যে বীজ পাবেন কয়েক লক্ষ কৃষক

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ অক্টোবর : বরাক উপত্যকার কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজে বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আগামী বছর থেকে বিশেষ ‘রাজমা মিশন’ চালু করার ঘোষণা দিলেন অসম সরকারের কৃষি ও জলসেচ মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা। এই প্রকল্পের আওতায় বরাক উপত্যকার কয়েক লক্ষ কৃষককে বিনামূল্যে রাজমার বীজ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি নারকেল ও সুপারির চারা এবং বিভিন্ন কৃষিজ ফসলের বীজ বিতরণের উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য সরকার।

শুক্রবার শ্রীভূমিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির অর্থ হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই ঘোষণা করেন মন্ত্রী। এদিন গুজরাটের বনাসকাঁঠা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের ৯.৩৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৬৯০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের অধীনে নির্মিত ৫২১টি প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ এবং ১২টি উদ্যানপালন ক্লাস্টারের সূচনা করেন তিনি। শ্রীভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় উপভোক্তাদের হাতে চেক তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ হাজরিকা জানান, অসমে প্রায় ১৯ লক্ষ ৮০০ জন কৃষক এবার পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের ২ হাজার টাকার কিস্তি পেয়েছেন। গত কিস্তির তুলনায় এবার উপকৃত কৃষকের সংখ্যা প্রায় এক হাজার বেড়েছে। কৃষক নিবন্ধন এবং কৃষক পরিচয়পত্র তৈরির ফলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি। আরও বেশি কৃষককে প্রকল্পের সুবিধা দিতে সকলকে দ্রুত কৃষক নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বরাক উপত্যকার কৃষি পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে তাঁর এই সফর বলে উল্লেখ করেন হাজরিকা। তিনি বলেন, বরাক উপত্যকায় উৎপাদিত রাজমার গুণমান অত্যন্ত উন্নত। এমনকি জম্মু-কাশ্মীরের রাজমার তুলনায় এখানকার রাজমার গুণমান ভালো বলেও তাঁকে জানানো হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই আগামী বছর থেকে রাজমা মিশন চালু করা হবে।

কৃষকদের সহায়তায় অন্যান্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রীভূমিতে বর্তমানে ৫ হাজার নারকেলের চারা এবং ২৫ হাজার সুপারির চারা মজুত রয়েছে। শীঘ্রই সেগুলি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি রবি শস্য, আলু ও বিভিন্ন ডালের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

জেলায় অবৈধভাবে সার বিক্রির দোকান পরিচালনার অভিযোগ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, লাইসেন্স ছাড়া কোনও সার বিক্রির দোকান চালানো যাবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিশা এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষিকাজে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর কথায়, অসমের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। রাজ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষকদের আয় বৃদ্ধি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বিধায়ক বিজয় মালাকার, বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য মিশনরঞ্জন দাস-সহ প্রশাসনের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *