মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ অক্টোবর : গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পড়ুয়াদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শরীফনগর এলপি স্কুলের মেরামতকাজের উদ্যোগ গ্রহণ করল মেদল-শরীফনগর গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বরাদ্দ থেকে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের মেরামতকাজ করা হবে। মঙ্গলবার এই কাজের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
মেদল-শরীফনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ শরীফনগর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাজার সংলগ্ন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিলান্যাস করেন জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি ময়নুল হক, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যা হেনা বেগমের প্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ুম, সমাজসেবী মুতলিব আলি, বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন এবং প্রধান শিক্ষিকা মমতা রক্ষিত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শিলান্যাসের পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি সংক্ষিপ্ত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবী মুতলিব আলি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি ময়নুল হক জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই অর্থ দিয়ে ওয়ার্ডের সবচেয়ে জরাজীর্ণ রাস্তাটি সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ওয়ার্ড সদস্যার প্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ুমও উদ্যোগী হয়েছিলেন। তবে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু খাতেই এই অর্থ ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র-সহ নির্ধারিত ক্ষেত্রগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজের নির্দেশ থাকায় আপাতত সেই নিয়ম মেনেই বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়ন ও মেরামতকাজে অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে গ্রাম পঞ্চায়েতের রাস্তাঘাট-সহ অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হলে স্থানীয় জনগণ এবং পঞ্চায়েতের সদস্য-সদস্যাদের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মেদল-শরীফনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যা হেনা বেগমের প্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ুম উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, সেগুলি এলাকার মানুষের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী দিনেও সরকারি অনুদানে নতুন কোনও কাজের সুযোগ এলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের আশা, মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে শরীফনগর এলপি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের জন্য আরও উন্নত ও উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠবে।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী খয়রুল আলম চৌধুরী, জাবেদুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়েসুর রহমান, কাবিল উদ্দিন, শিক্ষিকা আঁখি চৌধুরী, সাহানা বেগম চৌধুরী ও নাজরানা বেগম, শিক্ষিকা সেহনাজ সুলতানা, শিক্ষক জামিল উদ্দিন ও আব্দুস সালাম-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রামীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী দিনে মেদল-শরীফনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ আরও গতিশীল হবে।



