‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এ গ্রেপ্তার ১৮, উদ্ধার ৫০০ ডিটোনেটর ও নগদ ১২ লক্ষ টাকা
২৫ অক্টোবর : আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের ৩৮টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে ১০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের হদিস পাওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১৭.৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি, ৫০০টি ডিটোনেটর এবং নগদ ১২ লক্ষ টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর শুক্রবার ভোরে এই অভিযান শুরু করে NCB। অভিযানে সহযোগিতা করে মিজোরাম পুলিশ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা। যৌথ তদন্তকারী দল মিজোরামের আইজল, চম্পাই ও জোখাওথার, মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর এবং অসমের কাছাড় জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে তল্লাশি চালায়।

তদন্তকারীদের দাবি, ভারত-মায়ানমার-বাংলাদেশ করিডরকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার চালিয়ে আসছিল একটি আন্তর্জাতিক চক্র। মায়ানমার থেকে নিষিদ্ধ মাদক ভারতে নিয়ে এসে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যান্য প্রান্তে পাচার করা হতো। এমনকি বাংলাদেশেও মাদক পাঠানো হতো বলে অভিযোগ।
NCB-র দাবি, মায়ানমারের বাসিন্দা থাংচিনতুয়াং ওরফে চিনতুয়াং এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম মূল মাথা। দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, চিনতুয়াংয়ের নেতৃত্বাধীন চক্রটি মায়ানমার থেকে মেথামফেটামিন ও হেরোইন সংগ্রহ করে মিজোরাম, মণিপুর, অসম ও ত্রিপুরার মতো রাজ্যের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করত। এই পাচার নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের হাওয়ালা কারবারের যোগসূত্র রয়েছে বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে লালরামপারি নামে এক অভিযুক্ত মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই চিনতুয়াংয়ের সন্ধান পাওয়া যায় বলে দাবি NCB-র। এরপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।
সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার তিন রাজ্যের ৩৮টি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চিনতুয়াং-সহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সম্পত্তি, নগদ টাকা ও ৫০০টি ডিটোনেটর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এর সাফল্যে তিন রাজ্যের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের ৩৮টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্ত সমস্ত বাহিনীকে অভিনন্দনও জানান তিনি। অন্যদিকে, অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। উত্তর-পূর্ব ভারতকে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ মাদক ও অন্যান্য বেআইনি পণ্যের পাচার বন্ধ করার ওপর জোর দেন তিনি।
তদন্তকারীদের মতে, এই অভিযান আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির সঙ্গে মাদক পাচারের যোগসূত্র এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।



