দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২১ অক্টোবর : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আপসহীন দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে স্মরণ করে শিলচরের অম্বিকাপট্টিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠা দিবস। বুধবার নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশন, কাছাড়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা, আজাদ হিন্দ সরকারের তাৎপর্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদান নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সকালে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি তথা নেতাজি গবেষক নীহার রঞ্জন পাল আজাদ হিন্দ ফৌজের ঐতিহাসিক তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহিদ বেদিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সমবেত ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
মূল বক্তব্যে নীহার রঞ্জন পাল বলেন, ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের ক্যাথে অডিটোরিয়ামে অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ছিল নেতাজির এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই সরকার গঠন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সমর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বও নিজের হাতে গ্রহণ করেন নেতাজি।

তিনি জানান, জাপান, জার্মানি, ইতালি, থাইল্যান্ড, বার্মা, ফিলিপাইন-সহ একাধিক রাষ্ট্র আজাদ হিন্দ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সরকারের নিজস্ব ব্যাঙ্ক, মুদ্রা, ডাকটিকিট, বেতার কেন্দ্র ও বিচারব্যবস্থাও ছিল। তাঁর মতে, আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজকে স্বাধীন ভারতের জাতীয় সেনাবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
বক্তব্যে ১৯৪৫-৪৬ সালে লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ ফৌজের তিন সেনানী কর্নেল প্রেম সায়গল, কর্নেল গুরবক্ষ সিং ধীলন ও মেজর জেনারেল শাহ নওয়াজ খানের বিচার এবং তা ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্ট আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এই ঘটনাগুলি ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নেতাজির ১৯৪৩ সালের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ।ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি দীপক সেনগুপ্ত ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। এছাড়া সাধন পুরকায়স্থ, জনান্তিকা দেব ভট্টাচার্য, আইনজীবী সুব্রত ভট্টাচার্য ও শিক্ষাবিদ দীপঙ্কর চন্দ নেতাজির জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, নেতাজির আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সারা বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গলি ফরওয়ার্ড ব্লকের সভাপতি মনোতোষ পাল, গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শান্তনু দাস ও সম্পাদক অশোক কুমার দেব, শিলচর সর্বোদয় ট্রাস্টের সম্পাদক তথা আইনজীবী শেখর পালচৌধুরী, বিদ্যুৎ দেব, সুবীর দেব, সুজিত দেব, কৃপাসিন্ধু দেব, নৃত্যশিল্পী সৃজনী দেব, সংগীতশিল্পী বাপী রায়, সমাজকর্মী দুলালী গাঙ্গুলী, সাংস্কৃতিক কর্মী ভাস্কর দাস, কৃষ্ণা দেব, অঞ্জনা পাল-সহ ফাউন্ডেশনের সদস্য ও বহু নেতাজি অনুরাগী।



