দরজায় খোলে যাওয়ায় ঢাকায় জরুরি অবতরণ ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের, মৃত রোগী

Spread the news

১৮ অক্টোবর : বাংলাদেশের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করল একটি ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা এক অসুস্থ রোগীকে ঢাকার কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রধান দরজাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিকভাবে খুলে যায়। এর জেরেই জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র রিয়াজ উদ্দিন জানান, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর উড়োজাহাজটি কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় অবতরণের অনুমতি চায়। অনুমতি পাওয়ার পর সেটি ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি ঢাকায় অবতরণের আগেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রস্তুত রাখা হয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান, অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবার কর্মীদের।

পরে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স নিরাপদে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা দুই ক্রু সদস্যসহ অন্যান্য আরোহী নিরাপদে ছিলেন। তবে অসুস্থ রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গিয়েছে, সাত আসনবিশিষ্ট ‘বিচক্র্যাফট কিং এয়ার’ মডেলের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি ১৯৯৪ সালে তৈরি হয়েছিল। একসময় এটি ভারতের হরিয়ানা রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন ছিল। পরবর্তীতে ‘ঝংকার এভিয়েশন’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে আসে উড়োজাহাজটি। সর্বশেষ এটি ‘এসকেবি ইন্ট্রাকন’ পরিচালনা করছিল।
বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটিতে দুই ক্রু সদস্য ছাড়াও একজন রোগী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক এবং রোগীর দুই পরিচর্যাকারী ছিলেন। তবে রোগীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *