দুর্গাপূজায় শিলচর শহরে যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ, ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ অক্টোবর : আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিঘ্নে পুজো উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে শিলচর পুর নিগমের অধীনস্থ বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলের ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা, যাত্রীবাহী গাড়ির রুট পরিবর্তন, একমুখী যান চলাচল এবং নির্দিষ্ট সড়কে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসর্জনের দিনও শহরের যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিলচর শহরে ভারি ও মাঝারি ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। একই সময় থেকে শহরের পুর এলাকায় ভারী, মাঝারি ও ছোট যাত্রীবাহী বাস এবং অন্যান্য হালকা বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী গাড়ির চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, বিআরটিএফ ও সিআরপিএফের গাড়িও এই বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভিন্ন রুটের যানবাহনের জন্য বিকল্প পথ
অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সরকারের অধীন যাত্রীবাহী বাস এবং বেসরকারি সুপার বাসগুলি সকাল ৯টার পর থেকে রামনগর, নাগাটিলা, রংপুর ও রায়গড় হয়ে চলাচল করবে। করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি রুটের বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী গাড়িকে রামনগর দিয়ে যাতায়াত করতে হবে। লক্ষীপুর, উধারবন্দ ও মণিপুরের গাড়িগুলি রামকৃষ্ণ পেট্রল পাম্প, সোনাই ও মিজোরামের গাড়িগুলি জাঙ্গিয়ানা পয়েন্ট এবং মাছিমপুর রুটের গাড়িগুলি তারাপুর হয়ে চলাচল করবে। ধোয়ারবন্দ রুটের গাড়ির জন্য নির্ধারিত হয়েছে কাঠাল পয়েন্ট।
মালুগ্রাম ও ট্রাঙ্ক রোডের দিক থেকে আসা অন্যান্য যানবাহন সদরঘাট পয়েন্ট হয়ে ফরেস্ট অফিসের সামনে দিয়ে জানিগঞ্জ, দেওয়ানজিবাজার ও প্রেমতলা অতিক্রম করে রাঙ্গিরখাড়ির দিকে যেতে পারবে। রাঙ্গিরখাড়ির দিক থেকে আসা হালকা যানবাহনের জন্য প্রেমতলা, শিলংপট্টি, ডিআইজি অফিস পয়েন্ট, হোটেল বরাইল ভিউয়ের সামনের রাস্তা, টেনিস পয়েন্ট, পিডব্লিউডি রোড ও ইন্ডিয়া ক্লাব রোডসহ একাধিক বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

চামড়া গুদাম ও বিলপার থেকে আসা গাড়ি কালীবাড়ি রোড হয়ে দেওয়ানজিবাজারের দিকে যেতে পারবে। তবে পুরনো গোপীনাথ সিনেমা হলের কাছে পাবলিক স্কুল রোডে সম্পূর্ণ নো-এন্ট্রি থাকবে। জানিগঞ্জ থেকে তুলাপট্টি ও উকিলপট্টির দিকে কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। হাসপাতাল রোড থেকে চেংকুড়ি রোডের দিকেও যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

লিংক রোড ও অন্যান্য সড়কে নিয়ন্ত্রণ
পুজোর প্রথম দিন, অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে ১ নম্বর লিংক রোড একমুখী করা হবে। সোনাই রোডের দিক থেকে যানবাহন এই রাস্তায় প্রবেশ করে হাইলাকান্দি রোড দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে। লোচন বৈরাগী রোডেও দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির দিক থেকে আসা হালকা যানবাহন ন্যাশনাল হাইওয়ে পয়েন্ট হয়ে রাঙ্গিরখাড়ি পয়েন্ট দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে পারবে। ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে ইন্ডিয়া ক্লাব পয়েন্ট ও তারাপুর ইঅ্যান্ডডি কলোনি পয়েন্টের মধ্যবর্তী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

শিলচর থেকে উধারবন্দ ও বড়খলার দিকে যাওয়া গাড়িগুলি সদরঘাটের পুরনো সেতু অথবা অন্নপূর্ণা সেতু হয়ে ছোট দুধপাতিল, ময়নারবন্দ ও হাইওয়ে দিয়ে যেতে পারবে। অন্যদিকে উধারবন্দ, বড়খলা ও লক্ষীপুরের দিক থেকে আসা হালকা যানবাহনের জন্য রংপুর, সদরঘাট, ক্যাপিটাল পয়েন্ট, ট্রাঙ্ক রোড, ইন্ডিয়া ক্লাব, জেল রোড ও বিবেকানন্দ রোড হয়ে আশ্রম রোডে যাওয়ার বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সদরঘাটের ফরেস্ট অফিস গলি, কোর্ট, জানিগঞ্জ, নাজিরপট্টি, প্রেমতলা ও রাঙ্গিরখাড়ি দিয়েও যাতায়াত করা যাবে। শহরের কোনও যানবাহনে কালো কাচ ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

সপ্তমী থেকে নবমী রিকশা ও ঠেলা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
১৭ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর দিন বিকেল ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট রাস্তায় রিকশা ও ঠেলা চলাচল বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে রাঙ্গিরখাড়ি থেকে প্রেমতলা, দেওয়ানজিবাজার, তুলাপট্টি হয়ে অন্নপূর্ণা পয়েন্ট; প্রেমতলা থেকে উল্লাসকর দত্ত সরণি, শিলংপট্টি হয়ে ডিআইজি অফিস পয়েন্ট; দেওয়ানজিবাজার থেকে থানা পয়েন্ট, জানিগঞ্জ-তুলাপট্টি ও ট্রেজারি অফিস পয়েন্ট এবং ইন্ডিয়া ক্লাব থেকে তারাপুর হয়ে ইঅ্যান্ডডি কলোনি পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তা।

এছাড়া রংপুরের দিক থেকে সকাল ১০টার পর কোনও রিকশা বরাক সেতু অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।

বিসর্জনের দিন বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা
২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের দিন দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুর এলাকার ভিতরে যানবাহন চলাচলে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। প্রতিমাবাহী গাড়িগুলির জন্য পৃথক রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাঙ্গিরখাড়ির দিক থেকে আসা প্রতিমাবাহী গাড়িগুলি প্রেমতলা, নাজিরপট্টি, সেন্ট্রাল রোড ও ডাকবাংলো পয়েন্ট হয়ে বিসর্জন ঘাটে যাবে। বিসর্জনের পর পুর নিগম দফতরের সামনে দিয়ে গাড়িগুলি বেরিয়ে যেতে পারবে।

তারাপুরের দিক থেকে আসা প্রতিমাবাহী গাড়িগুলি ডিআইজি বাংলো পয়েন্ট হয়ে অন্নপূর্ণা পয়েন্ট অথবা শিলংপট্টি ও প্রেমতলার নির্ধারিত পথ ধরে বিসর্জন ঘাটে পৌঁছাবে। রংপুর ও মালুগ্রামের দিক থেকে আসা গাড়িগুলি ক্যাপিটাল পয়েন্ট ও ক্লাব রোড হয়ে ডাকবাংলো পয়েন্টে পৌঁছে অন্য প্রতিমাবাহী গাড়ির সঙ্গে নির্ধারিত পথে বিসর্জন ঘাটে যাবে।

সেন্ট্রাল রোড থেকে আসা প্রতিমাবাহী গাড়িতে বাজানো ডিজে বক্স ক্ষুদিরাম পয়েন্টে বন্ধ করতে হবে। ট্রাঙ্ক রোড হয়ে তারাপুর থেকে আসা গাড়ির ডিজে বক্স ক্যাপিটাল পয়েন্টে এবং রংপুর থেকে আসা গাড়ির ডিজে বক্স সদরঘাটের পুরনো সেতুর নিচে বন্ধ করতে হবে।
তবে ফায়ার ব্রিগেড, চিকিৎসা পরিষেবা, জল সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের গাড়ির ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্দেশিকায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *