বরাক তরঙ্গ, ১৩ অক্টোবর : সোনাই সঙ্গীত বিদ্যালয়ের উদ্যোগে সঙ্গীত, নৃত্য ও যোগাসন প্রতিযোগিতা, বরাক রত্ন সম্মান প্রদান, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর রবিবার সোনাই বাজারের মাল্টি পারপাস ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগী, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকাল ১০টা থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, লোকগীতি, নৃত্য ও যোগাসন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দুপুর ২টা থেকে বরাক রত্ন সম্মান প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় বিভিন্ন বিভাগের প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জেলা, শহর ও গ্রাম থেকে মোট ১২২ জন প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বরাক উপত্যকার সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বভারতীয় গীতিকার ও নাট্যকার আজাদ তৈমুছ লস্কর এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মনির উদ্দিন লস্করের স্মৃতিতে ‘বরাক রত্ন সম্মান’ প্রদান করা হয়। সম্মানপ্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গের সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী, বিশিষ্ট সংগঠক, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী ও শিল্পপতি বাবুল হোড়, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক ও গীতিকার বাপি দত্ত রায়, প্রবীণ নাট্যাভিনেতা বিধান চন্দ্র চৌধুরী, ডিএসপি তানবির আহমদ, লোকগীতি শিল্পী বিধান লস্কর এবং তরুণ সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ শেখ সাহারুল আলম।
এছাড়াও সোনাই, শিলচর, ধলাই ও লক্ষীপুর এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজসেবী, কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতশিল্পীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মনির উদ্দিন লস্কর ও সর্বভারতীয় গীতিকার ও নাট্যকার আজাদ তৈমুছ লস্করের স্মৃতিতে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মতিনগর দিদারকুশ ১০৩৭ নম্বর এলপি স্কুলের ক্ষুদে পড়ুয়াদের যোগাসন পরিবেশনা। বড় মঞ্চে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেও তাদের সাবলীল পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। সঙ্গীত বিভাগে ছোট্ট শিল্পী মাহির লস্কর জুবিন গর্গের জনপ্রিয় গান ‘ইয়া আলি’ পরিবেশন করে সবার প্রশংসা অর্জন করে। তার পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে অতিথি ও দর্শকদের পক্ষ থেকে আশীর্বাদস্বরূপ তাকে মোট ৩,২০০ টাকা উপহার দেওয়া হয়।

সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শিলচরের রিম্পী দে এবং সোনাইয়ের লেখিকা দাস। সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ধলাইয়ের মিলা নাথ, লক্ষীপুরের অনিন্দিতা চক্রবর্তী, সোনাইয়ের রানু চক্রবর্তী ও আফতাব উদ্দিন বড়ভুইয়া। যোগাসন প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন কচুদরমের অনুজ কুমার দাস। অনুষ্ঠানে ঘোষকের দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি নীহার দাস ও সহ-সভাপতি সাহারিয়ার লস্কর।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি তানবির আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষিকা ফেরদৌসি বেগম লস্কর জ্যোতি, মমতা চৌধুরী, বিধান লস্কর, বাপি দত্ত রায়, বিধান চৌধুরী, রিম্পী দে, প্রীতম দাস, মুজাক্কির আলী মজুমদার, শুক্লা চৌধুরী, বাহার বেগম লস্কর, আফতাব উদ্দিন, নীহার দাস, সাহারিয়ার লস্কর, লেখিকা দাস, নানছি লস্কর, বাহারুল ইসলাম, অনুজ কুমার দাস, রাজু প্রসাদ গোয়ালা, দিলীপ দাস, কাজল শুক্লবৈদ্য, নাড়ু পাল, রিয়াদ হাসান, সাকির চৌধুরী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত সকলকে আজাদ তৈমুছ লস্কর ও মনির উদ্দিন লস্করের স্মৃতিতে প্রশংসাপত্র এবং আকর্ষণীয় স্মারক ট্রফি প্রদান করা হয়। পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র প্রদানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন শিক্ষক আফতাব উদ্দিন বড়ভুইয়া, সাহারিয়ার লস্কর, স্বাস্থ্যকর্মী মুজাক্কির আলী মজুমদার, সঙ্গীতশিল্পী নীহার দাস, শিক্ষিকা শুক্লা চৌধুরী, গীতিকার বাপি দত্ত রায়, শিল্পপতি বাবুল হোড়, নাট্যাভিনেতা বিধান চৌধুরী, মিনার হোসেন, মমতা চৌধুরী, নজরুল হক লস্কর-সহ আরও অনেকে।
সমগ্র অনুষ্ঠান দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন সোনাই সঙ্গীত বিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক তথা অনুষ্ঠানের মুখ্য আয়োজক এনামুল ইসলাম লস্কর। অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সকল অতিথি, বিচারক, সহযোগী, প্রতিযোগী ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।



