৭ অক্টোবর : আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর দিনটি আবেগঘন হয়ে উঠল গোটা স্তাদিও মনুমেন্তালে। বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয় পেল আর্জেন্টিনা। আর সেই জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন মেসি নিজেই—একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করালেন আরও দুটি গোল।
বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল নানা আয়োজন। তবে সবশেষে মেসির দীর্ঘ বিদায়ী বক্তব্যেই আবেগের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিদায়ী ভাষণে মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে খেলতে পারা তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নানা কঠিন সময় এলেও তিনি কখনও লড়াই থামাননি। বরং প্রতিবারই দেশের হয়ে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

মেসি বলেন, “আমার হাতে থাকলে আমি সারা জীবন আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে অবসর নেওয়ার সময় এসেছে।”
নিজের ক্যারিয়ারের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে মেসি স্মরণ করেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের স্মৃতি। তাঁর মতে, এসব অর্জন শুধু তাঁর একার নয়; দীর্ঘদিন ধরে পাশে থাকা সতীর্থদের সম্মিলিত লড়াইয়ের ফল।
সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন সময়েই একটি দলের প্রকৃত শক্তি বোঝা যায়। আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামার সময় তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন, পাশে থাকা সতীর্থরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়াই করবেন।
সমর্থকদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আর্জেন্টিনার ম্যাচে সমর্থকদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ভালোবাসার কারণেই বিদেশের মাঠেও অনেক সময় নিজেদের ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি হয়েছে। মেসি জানান, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে খেলা ম্যাচটি তাঁর জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। বিপরীতে বিদায়ের এই দিনটি তাঁর কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি।
আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, “আমি আপনাদের সবাইকে খুব মিস করব। তবে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন করে যাব।”
শেষে পরিবার ও বাবার কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, “আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। আমি কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।”



