মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ অক্টোবর: উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিশুদের স্বাস্থ্য-পুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ করিমগঞ্জে একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY)-এর আওতায় দুর্গানগর আঙ্গুরা জিপির কায়স্থগ্রাম পরমানন্দ মার্কেট সেড থেকে বিলবারী রোড পর্যন্ত ১.৩২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়। অন্যদিকে কেউটকোনা জিপির শাহ জালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘জাতীয় পুষ্টি মাস’ উপলক্ষে আয়োজিত হয় পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচি, ‘পোষণ বাটিকা’ প্রদর্শনী এবং ০ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের আধার এনরোলমেন্ট শিবির।

কায়স্থগ্রাম-বিলবারী সড়কের শিলান্যাস করেন করিমগঞ্জের সাংসদ কৃপানাথ মাল্লা ও দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সমস্যায় থাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সড়কটি নির্মিত হলে কৃষকদের ফসল বাজারে পৌঁছনো, ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছনো এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়দের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে তা অনেকটাই কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি দ্রুত ও গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হোক।
এদিকে, দক্ষিণ করিমগঞ্জ ICDS প্রজেক্ট ও মহিলা ও শিশু উন্নয়ন (WCD) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শাহ জালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পুষ্টি কর্মসূচিতে শিশুদের সুষম খাদ্য, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতন করা হয়। ‘পোষণ বাটিকা’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ছোট শিশুদের আধার নথিভুক্তির সুবিধার্থে বিশেষ শিবিরও আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জের জেলাশাসক প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী, সাংসদ কৃপানাথ মাল্লা, বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রতিনিধি রিজু আহমেদ তালুকদারসহ সরকারি আধিকারিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে উন্নয়ন শুধু রাস্তা বা পরিকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; শিশুদের সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ করিমগঞ্জের মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচিও নিয়মিতভাবে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে।



