বরাক তরঙ্গ, ৩ অক্টোবর : ২০২৪ সালের জুনে তৎকালীন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিংহের কনভয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই কুকি যুবককে গ্রেফতারের পর ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র বিরুদ্ধে ‘বেছে নেওয়া বিচার’-এর অভিযোগ তুলেছে ইউনাইটেড কুকি ইয়ুথ কাউন্সিল (UKYC)।
এক বিবৃতিতে UKYC গ্রেফতার হওয়া দুই যুবকের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন ৪৪ বছর বয়সি জাংমিনলুন সিংসন ওরফে ফ্র্যাঙ্কি এবং ২১ বছর বয়সি থাংজোয়েল হাওকিপ ওরফে থাংবোই।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর NIA ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের থৌবালের NIA মামলাসংক্রান্ত বিশেষ আদালতে হাজির করা হলে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। NIA জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। হামলার ঘটনায় তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা, কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তির যোগসূত্র এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের পরিচয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১০ জুন কাংপোকপি জেলার কেসিনাম গ্রামের কাছে NH-37 সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। NIA-র দাবি অনুযায়ী, হামলায় দুই নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হন এবং সরকারি কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

UKYC-র অভিযোগ, দুই যুবকের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ আসলে কুকি সম্প্রদায়কে নিশানা করারই সামিল। সংগঠনটি NIA-র বিরুদ্ধে কথিত ‘মেইতেই উগ্রপন্থী গোষ্ঠী’ এবং NSCN-IM-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছে।
সংগঠনের দাবি, বিরেন সিংহের কনভয়ে হামলাটি কুকি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথিত রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট হিংসার প্রতিবাদে একটি ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ ছিল। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
UKYC-র আরও অভিযোগ, কুকি-জো জনগণের বিরুদ্ধে হিংসার জন্য বিরেন সিংহ দায়ী। এ প্রসঙ্গে তারা একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের উল্লেখ করেছে, যা ২০২৩ সালের জাতিগত হিংসা সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা ও অখণ্ডতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আগস্টে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির ফরেনসিক পরীক্ষায় রেকর্ডিংয়ে পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে ওই অডিও রেকর্ডিং এবং ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করছে।
UKYC সুপ্রিম কোর্টের কাছে অডিও রেকর্ডিংটিকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, তদন্তে যে বা যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া উচিত।



